প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১০ পিএম আপডেট: ২৮.০৯.২০২৬ ৬:১৩ PM

ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষের ভিড়। কেউ জমির নামজারি করতে এসেছেন, কেউ আবার পেন্ডিং আবেদনের অগ্রগতি জানতে অপেক্ষা করছেন। এরই মধ্যে বোরকা পরে সেবাগ্রহীতার ছদ্মবেশে ওই ভিড়ে ঢুকে পড়েন এক নারী। পরিচয় জানতে চাইলে নিজেকে সাধারণ সেবাগ্রহীতা হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। পরে জানা যায়, ওই নারী আর কেউ নন, ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম।
কাগজে-কলমে থাকা সরকারি সেবার সঙ্গে সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা সরেজমিনে যাচাই করতেই পরিচয় গোপন করে উত্তর খান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান তিনি।
বোরকার আড়ালে সেবাগ্রহীতার ছদ্মবেশে দীর্ঘ সময় অন্যদের সঙ্গে অবস্থান করেন ডিসি ফরিদা খানম। এ সময় ভূমিসেবা নিতে আসা মানুষের সুবিধা-অসুবিধা ও নানা অভিযোগের কথা সরাসরি শোনেন তিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভূমিসেবা নিতে এসে মানুষ কোনো ধরনের ভোগান্তি, বিলম্ব, অনিয়ম বা হয়রানির শিকার হচ্ছেন কি না, তা সরাসরি জানতে চান জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি একজন সাধারণ সেবাগ্রহীতার মতো করে নিজেও অফিসের সেবা নেওয়ার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে ভূমি অফিসের সার্বিক কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করেন ডিসি। সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ, দাপ্তরিক প্রক্রিয়া কতটা সহজ কিংবা জটিল— এসব বিষয়েও নজর দেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই সহজে ভূমিসেবা পান, তা নিশ্চিত করতেই এসব বিষয় খতিয়ে দেখেন জেলা প্রশাসক।
পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ও সহজে সাধারণ মানুষকে ভূমিসেবা দেওয়ার নির্দেশনা দেন ফরিদা খানম। সেবা নিতে এসে কেউ যেন অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অফিসে বসে প্রতিবেদন বা অভিযোগের ওপর নির্ভর করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে গিয়ে সরাসরি সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা জানা গেলে সরকারি সেবার প্রকৃত চিত্র আরও ভালোভাবে বোঝা যায়। পরিচয় প্রকাশ না করে সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়ালে সেবার বাস্তব অভিজ্ঞতা কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ