
রাজবাড়ী পৌর শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল রোডসহ আশপাশের সড়কগুলোর বেহালে জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় এসব সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। উল্টে যাচ্ছে রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা ও ইজিবাইক। আহত হচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা। এমন অবস্থায় বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী বাঁশ, কাঠ ও গাছের ডালপালা দিয়ে রাস্তা আটকে দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে কাজীকান্দা সেগুনবাগিচা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাজবাড়ীর পাবলিক হেলথ থেকে ২ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত পুরো সড়ক খানাখন্দে ভরা, কোথাও কোথাও গভীর গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই জমছে হাঁটু পানি। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে রাস্তা হয়ে উঠেছে যান চলাচলের অযোগ্য। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা বাঁশ, কাঠ ও লাল কাপড় দিয়ে সতর্ক চিহ্ন দিয়ে রেখেছেন।
সরেজমিনে আরও জানা গেছে, রাজবাড়ীর প্রধান সড়কে ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় হাসপাতাল রোডকেই বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে মালবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, বালুবাহী ট্রাকসহ নানা ভারী যান। প্রায় দুই-তিন বছর ধরে চলমান এই চাপে রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে খোয়া ও মাটি বেরিয়ে এসেছে। বর্তমানে রাস্তাটি সম্পূর্ণ চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক চলাচল করে। হাসপাতাল, মসজিদ, স্কুল, কলেজ, ক্লিনিকসহ একাধিক সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এই রুটে অবস্থিত।
হাসপাতাল রোড ছাড়াও ড্রাইস ফ্যাক্টরি রোড, গোদারবাজার রোড, টেকনিক্যাল থেকে শ্রিপুর বাজার রোড, দক্ষিণ ভবানীপুর রোড, ধুন্চি রোডসহ রাজবাড়ী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ সড়কেরই বেহাল অবস্থা। রেলগেট থেকে নূরপুর পর্যন্ত রাস্তাও ভাঙাচোরা, নানা জায়গায় পিচ উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।
রাজবাড়ী পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল রোড (১৬৭৫ মিটার), পান্না চত্বর থেকে তালতলা (২১২০ মিটার) এবং ২ নম্বর রেলগেট থেকে এতিমখানা রোড পর্যন্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নিয়ে একটি আরইউটিডিপি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। চলতি মাসেই প্রকল্পটি অনুমোদনের পর টেন্ডার আহ্বানের সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজবাড়ী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ খান জানান, “বৃষ্টির কারণে কিছু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আশা করছি এই মাসেই অনুমোদন হয়ে যাবে। টেন্ডার শেষে দ্রুত কাজ শুরু করবো। পাশাপাশি হাসপাতাল রোড আরসিসি দিয়ে উন্নয়ন করার বিষয়টিও প্রকল্পে রাখা হয়েছে।”
মোটরসাইকেল আরোহী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবত এই রাস্তার বেহাল অবস্থা, পথচারীসহ যারা এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রশাসন ও দায়িত্বশীলদের এই রাস্তার দিকে নজর দেওয়া উচিত।’
সুজন শেখ নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘দুই, তিন বছর ধরে রাস্তাটি এমন দেখছি। রাস্তার পাশে পানির লাইন লিকেজ ও ড্রেন থেকে পানি বের হবার কারণে সবসময় পানি থাকে। বড় বড় ট্রাক যাওয়ার কারণে রাস্তাটি ভেঙে গেছে। প্রতি বছর টুকটাক সংস্কার করা হলেও এবার কিছুই করা হয়নি। গতকাল এখানে একটি ইজিবাইক উল্টে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে এলাকাবাসী রাস্তাটি ব্লক করে দিয়েছে। আমরা দ্রুত এর সংস্কার দাবি করছি।’
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ