জনগণের ভোটেই নির্বাচনে জয়লাভ করবে বিএনপি : ড. এম এ কাইয়ুম

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এম এ কাইয়ুম।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এম এ কাইয়ুম বলেছেন, “জনগণের ভোটেই আগামী নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে। গণমানুষের কাছে জনপ্রিয় দল বিএনপি। আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।”
আজ মঙ্গলবার (৮ জুলাই) গুলশানের একটি হলরুমে হাতিরঝিল থানা বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নেতাকর্মী ও জনসাধারণের প্রতি এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে আলহাজ এম এ কাইয়ুম বলেন, “ইনশাআল্লাহ সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করবে। বিএনপি নির্বাচিত হবার পর দেশ, গণতন্ত্র ও জনকল্যাণে কী করবে ইতোমধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতির সামনে তা উপস্থাপন করেছেন। সেসব কর্মসূচি গ্রামে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। নেতাকর্মীদের দায়িত্ব নিয়ে এ কাজ সুচারুভাবে পালন করতে হবে।’’
ড. এম কাইয়ুম বলেন, “বিএনপি জনকল্যাণে যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, অন্যদলের সেই কর্মসূচি নেই। অন্যদল জনগণকে তুষ্ট করে নয়, নির্বাচনের পথে বাঁধা সৃষ্টি ও বিএনপিকে চাপে রেখে কৌশলে আসন বাগিয়ে নিতে চায়। অন্যদের অপকৌশলের ফাঁদে পা দিবেন না। এলাকায় দখল চাঁদাবাজি করবেন না। মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। কোন নেতাকর্মীর নামে দখল আর চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এম এ কাইয়ুম বলেন, “জুলাই-আগস্টকে স্মরণ করবো আমাদের মর্যাদার জন্য, ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের জন্য। এটা এমন একটা জিনিস, যেটাকে কখনো বিতর্কে নিয়ে যাওয়া উচিত হবে না। এই আন্দোলনে যারা ছিলেন, সবাই জাতীয় বীর। সবাই রক্ত দিয়েছেন জাতিকে মুক্ত করার জন্য। এই আন্দোলনে কিশোর, শ্রমিক, বয়স্ক থেকে শুরু করে সকলে একটি জাতীয় মুক্তির জন্য লড়াই করেছে। সেই জাতীয় মুক্তির কাজটি আমরা এখনো করতে পারিনি। জাতীয় মুক্তির কাজটি করতে হলে একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন দরকার।”
তিনি আরো বলেন, “স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের স্বাভাবিক পথ হচ্ছে নির্বাচন। এই নির্বাচনটা যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা করতে না পারব, ততক্ষণ বুঝতে হবে শহীদদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা পূর্ণতা পাচ্ছে না। তারা জীবন দিয়েছেন একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য। আর গণতান্ত্রিক দেশ গঠন করতে হলে নির্বাচন দরকার, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। সেই ভোটাধিকার আমরা এখনো মানুষকে বুঝিয়ে দিতে পারিনি। হাসিনার কেড়ে নেওয়া ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। ভোটের মধ্যদিয়ে জনগণ তাদের পছন্দের মার্কায় ভোট দেবে। এরপর আমরা একটি জাতীয় সরকার গঠন করব। সে সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা গঠন করতে না পারি, ততক্ষণ পর্যন্ত শহীদদের যথাযথ মর্যাদা দিতে পারছি না। শহীদদের যদি মর্যাদা ও সম্মান দিতে হয়, তাহলে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
ঢাকা ১১ আসনের মাটি মানুষের নেতা এম এ কাইয়ুম বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকার থানা ওয়ার্ডের যে নেতাকর্মী ১৭ বছর সরকারের দেওয়া মিথ্যা মামলার আসামি হয়েছেন। যাদের নামে মামলা হয়েছে তাদের নামের তালিকা করতে কমিটি কাজ করছে। সেই কমিটির তালিকা অনুযায়ী মামলাগুলো দেখভাল করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। অনেকে খালাস পেয়েছেন। অনেকের মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামীতে ওই সব মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পেতে যা করার প্রয়োজন আমরা তাই করবো।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এ জি এম শামছুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সোহেল ভুঁইয়া, রামপুরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক হেলাল কবির হেলু, রামপুরা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নীলুফা ইয়াসমিন নিলু। হাতিরঝিল থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কাইয়ুম সর্দার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম, হাতিরঝিল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জীবন ২২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইমরান ও রকি।
আরো উপস্থিত ছিলেন, জাতীয়তাবাদী যুবদলের ২২ নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক বাদশা গাজি, ২২ নং ওয়ার্ড যুবদল সদস্য সচিব জাফর আহমেদ শুভ,২২ নং ওয়ার্ড যুবদল সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনেওয়াজ মুরাদ, হাতিরঝিল থানা, সেচ্ছাসেবক দল যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুল বেপারী, জাসাস হাতিরঝিল থানা সদস্য সচিব মেহেদী হাসান মুকুল, জাসাস হাতিরঝিল থানা যুগ্ম আহ্বায়ক ও ২২ নং ওয়ার্ড আহ্বায়ক মাইদুল ইসলাম রাতুল, জাসাস হাতিরঝিল থানা যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল ইসলাম রিপন জাসাস হাতিরঝিল থানা যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লুবান। হাতিরঝিল থানা শ্রমিকদলের আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন, সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম। রামপুরা থানা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন, সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক আলমাচ খান, মো. শাহজাহান, মো. আলা উদ্দিন প্রমুখ।
আলোচনা শেষে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এম এ কাইয়ুমের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানান হাতিরঝিল থানা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।