
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ঘোড়াশাল-ডাংগা আঞ্চলিক সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৯ কি.মি. জুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত আর জমে থাকা কাঁদায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো যাত্রী ও চালকদের।
সড়কটির দুই পাশে রয়েছে পূবালী জুটমিল উচ্চ বিদ্যালয়, ঘোড়াশাল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাণ কোম্পানির কারখানা, জুট এলায়েন্স লিমিটেড, হাসপাতাল, বাজারসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। অথচ এসব স্থানে যাতায়াতের একমাত্র পথ এই সড়কটি এখন যেন জনদুর্ভোগের প্রতীক।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের গর্তে পানি জমে থাকে, কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে ৫ ইঞ্চি পর্যন্ত কাদা জমেছে । ঝুঁকি নিয়েই চলছে কাভার্ডভ্যান, সিএনজি, প্রাইভেটকার, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ট্রলি ও মালবাহী ট্রাক।
ডাংগা ইউনিয়নের সান্তানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রতন সরকার বলেন, “এখন সড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর কোনো সংস্কার না হওয়ায় আমরা প্রতিদিন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি।”
অটোরিকশাচালক সোহেল মিয়া বলেন, “সড়কে এত গর্ত যে বোঝা যায় না রাস্তায় আছি নাকি ধানক্ষেতে। গাড়ির আয় থেকে অধিকাংশ টাকাই গাড়ি সারাইয়ে চলে যাচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঘোড়াশাল-ডাংগা সড়কের দুর্দশা প্রায় ৭ বছর ধরে চলছে। জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশ্বাস দিয়েছেন, কাজ কিছুই হয়নি। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলেও হাসপাতালে নেওয়া কষ্টকর।”
শিক্ষার্থী তামিম, সিয়াম ও চৈতী জানান, “সড়কে চলার সময় গাড়ির চাকায় পানি-কাঁদা ছিটকে পোশাক নষ্ট হয়। হাঁটাও যায় না। খুব দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা দরকার।”
পথচারী আলম মিয়া বলেন, “২০ মিনিটের পথ এখন ১ ঘণ্টায়ও শেষ হয় না। আর ভাড়াও গুনতে হয় দ্বিগুণ।”
নরসিংদী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা-ই রাব্বি জানান, “এই সড়কটি পাঁচদোনা-ডাংগা চার লেন প্রকল্পের অংশ। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত ঠিকাদারের মাধ্যমে সংস্কার কাজ শুরু করতে।”
স্বদেশ প্রতিদিন /কেআইকে