প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫, ১২:১১ পিএম

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা এলাকায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের রক্ষা বাঁধের এক বিরাট অংশ ধসে পড়েছে। সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ নদীতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। বিকেল নাগাদ ভাঙনের ভয়াবহতা এতটাই বেড়ে যায় যে, দোকানপাট ও বসতবাড়ি একের পর এক পদ্মার গর্ভে বিলীন হতে থাকে। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সোমবারের ভাঙনে অন্তত ছয়টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে, নদীগর্ভে চলে গেছে আরও ১৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতির শঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে অন্তত ৩০টি পরিবার ও ২০টির বেশি দোকানপাট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অন্যত্র।
প্রসঙ্গত, নাওডোবার এই অঞ্চলে পদ্মার ভাঙন নতুন নয়। এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে জিরো পয়েন্ট এলাকায় প্রথম বড় ধরনের ধস দেখা দেয়। চলতি বছরের (৮ জুন) এখানে রক্ষা বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়েছিল। তবে এবারকার ভাঙন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্প সংলগ্ন আলম খার কান্দি, উকিল উদ্দিন মুন্সি কান্দি ও ওছিম উদ্দিন মুন্সি কান্দি গ্রামের প্রায় ৬০০ পরিবার।
মধ্য নাওডোবার বাসিন্দা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, দুপুর ৩টার পর থেকে হঠাৎ করে বাঁধের মাটি সরে যেতে থাকে। ৪টার পর থেকে একের পর এক দোকান, ঘরবাড়ি নদীতে পড়ে যাচ্ছে। আমরা ভীষণ আতঙ্কের মধ্যে আছি। দ্রুত স্থায়ী বাঁধের ব্যবস্থা না হলে এ এলাকা হয়তো মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।
হাজী মমিন আলী মাঝি কান্দি এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. জলিল সরদার বলেন, কয়েকদিন ধরেই নদীতে স্রোতের চাপ অনেক বেশি। বাঁধের পেছনে ফাটল দেখা দিলেও তখন কেউ গুরুত্ব দেয়নি। এখন তো সবকিছু ভয়াবহ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায় জানান, বর্তমান ভাঙন পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া ও ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দিচ্ছে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পদ্মার করাল গ্রাস থেকে পুরো এলাকা রক্ষা করা যাবে না।
স্বদেশ প্রতিদিন /কেআইকে