
বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ও টেসলা এবং স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। দলটির নাম ‘আমেরিকা পার্টি’, যা রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট পার্টির বিকল্প হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৫ জুলাই) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইলন মাস্ক এ ঘোষণা দেন। এরপর রোববার (৬ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানায়।
মাস্ক লিখেছেন, ‘আমরা আসলে একদলীয় শাসনের মধ্যেই বাস করছি, যেখানে অপচয় আর দুর্নীতির মধ্য দিয়ে দেশকে দেউলিয়া করে দেওয়া হচ্ছে। আজ ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠিত হলো আপনাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে।’
তবে এখন পর্যন্ত জানা যায়নি দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হয়েছে কি না। মাস্কও দলের নেতৃত্ব, কাঠামো বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সম্প্রতি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়ান মাস্ক। ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট পরিকল্পনার সমালোচনা করে মাস্ক জানান, তিনি আর সে সরকারের অংশ থাকতে চান না।
এর আগে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাস্ক ছিলেন ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক। তিনি তার প্রচারে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেন। নির্বাচনের পর তাকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি নতুন বিভাগ ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ বা DOGE-তে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই বিভাগের কাজ ছিল সরকারি বাজেট খরচে স্বচ্ছতা আনা।
তবে চলতি বছরের মে মাসে মাস্ক ওই বিভাগ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ট্রাম্পের ট্যাক্স ও ব্যয় পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা শুরু করেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধের সময় মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে একটি জরিপ চালান, যাতে তিনি ব্যবহারকারীদের প্রশ্ন করেন- যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি রাজনৈতিক দল প্রয়োজন কি না। সেই জরিপে ২:১ ব্যবধানে অধিকাংশ উত্তরদাতা নতুন রাজনৈতিক দল চেয়েছেন বলে জানান মাস্ক।
সম্প্রতি কংগ্রেসে পাশ হওয়া ট্রাম্পের বাজেট পরিকল্পনায় ব্যাপক ব্যয় ও কর হ্রাসের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। মাস্কসহ অনেক অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষক ধারণা করছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।
মাস্কের ‘আমেরিকা পার্টি’ কবে নাগাদ নির্বাচনে অংশ নেবে, বা এই দলের মাধ্যমে তিনি নিজে কোনো পদে প্রার্থী হবেন কি না- এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার মতো একজন প্রভাবশালী উদ্যোক্তার রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম