
অভিযুক্ত সয়ন দাস
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের ঘটনায় ছাত্রদলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। বিভাগীয় শ্রেণিকক্ষে দরজা বন্ধ করে নবীন শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ওই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সয়ন দাস ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সয়ন দাস কুবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভর কর্মী বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
র্যাগিংয়ের শিকার একাধিক শিক্ষার্থী ও বিভাগীয় প্রধান সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২ জুলাই) বিভাগের প্রথম ক্লাসে অংশ নিতে আসা নবীনদের ক্লাসরুমে আটকে রেখে গালিগালাজ করা হয়। তাদের বেঞ্চের ওপর দাঁড় করিয়ে অপমানজনক আচরণ করা হয়। পরিচয় দিতে না পারায় এক শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় মেরে শয়ন দাস বলেন, “আমরা তোদের বাপ লাগি।”
আরেক শিক্ষার্থীর শার্টের হাতা গুটিয়ে রাখা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর অভিযুক্তরা তার শার্ট টেনে ধরেন। এতে ওই শিক্ষার্থীর হাতে থাকা ডায়ালাইসিসের ক্যানোলা খুলে যায়। পরে জানা যায়, তিনি কিডনি রোগে আক্রান্ত এবং নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন।
অভিযোগে আরও উঠে আসে, অভিযুক্তরা নবীনদের ভয় দেখিয়ে বলেন, “কার কাছে বিচার দিবি? ম্যানার শেখানোর জন্য টিচাররাই আমাদের পাঠিয়েছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, “ওয়াহিদ নামে জার্সি পরা একজন আমাদের সিআরকে থাপ্পড় দেন এবং বলেন, ‘আমরা তোদের বাপ লাগি।"
র্যাগিংয়ের বিষয়ে অভিযুক্ত সয়ন দাস বলেন, “তেমন কিছু হয়নি, কাঁধে হাত দিয়েছি শুধু। বিষয়টা লম্বা করা হয়েছে।” তিনি নিজেকে ছাত্রদল কর্মী হিসেবে স্বীকার করেননি। প্রতিবেদকের কাছে তথ্য আছে বলার পর তিনি বলেন, পরে কথা বলবেন, এবং ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি।
ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ সয়ন দাসকে ওনার কর্মী নয় বলে অস্বীকার করেন। তার মতে প্রোগামে তো সিনিয়র জুনিয়র দলীয় বহুজন আসে। তিনি বলেন, অনেকেই আমাদের প্রোগ্রামে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আসে। এখন যেকাউকে আমার কর্মী বানিয়ে দেওয়া অনুচিত।” তবে প্রতিবেদকের কাছে তথ্য আছে জানালে তিনি প্রমাণ দেখতে চান।
প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য অনুযায়ী, শয়ন দাস নিয়মিত ছাত্রদলের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। এমনকি সিনিয়রদের সাথেও অসদাচরণ করার অভিযোগ রয়েছে বলে জানান ছাত্রদলের এক কর্মী।
সয়ন দাসের ব্যাপারে জানতে চাইলে কয়েকজন ছাত্রদল কর্মী বলেন, "তারা সয়ন দাসকে চিনেন এবং সে যে মুস্তাফিজুর রহমান শুভর কর্মী তা নিশ্চিত করেন। একজন কর্মী বলেন, সয়ন দাস আমার জুনিয়র সে আমার সাথেও একবার অসদাচরণ করে। সবসময় একটা এগ্রেসিভ মোডে থাকে।
বিষয়টি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর