প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০২৫, ৩:৪৭ পিএম আপডেট: ০৪.০৭.২০২৫ ৪:৩৮ PM

ঢাবি ছাত্রদলের সহ-মানবাধিকার সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন অন্তুকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শিবিরের গানে মডেলিংয়ের অভিযোগে বহিষ্কৃত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সরকারের বহিষ্কারাদেশের প্রতিবাদ করায় ঢাবি ছাত্রদলের সহ-মানবাধিকার সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন অন্তুকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তার বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে অন্তু লিখেছিলেন, “শরীফ উদ্দিন সরকার ভাইয়ের সাথে ছাত্রদল স্রেফ দলীয় নোংরামির ইতর মুখটা দেখালো। তার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে অন্তুকে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হাজির হতে নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে কেন সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়।”
তবে অন্তু ফেসবুকে আরেক স্ট্যাটাস দিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে বলেন, “কারো প্রতি ঘোরতর অন্যায় করা হলে সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা যদি আমার সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ হয় তাহলে এমন শৃঙ্খলে আমি আবদ্ধ থাকতে চাই না। আমি কোনো অন্যায় করিনি, তাই লিখিত ব্যাখ্যা দেব না।”
এরপর বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ মানবাধিকার সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন অন্তুকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, “ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মোজাম্মেল হোসেন অন্তুর সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন।”
এ বিষয়ে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা শরীফ বলেন, “ছাত্রদল খুব খারাপ একটা নজির স্থাপন করলো। তারা আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে বহিষ্কার করেছে। এখন অন্তুকেও যেভাবে বহিষ্কার করেছে তাতে তরুণ প্রজন্মের ছাত্রদলের প্রতি বিরূপ ধারণা জন্মাবে।”
তবে, এ বিষয়ে ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।