
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গত ৩ দিন ধরে স্ত্রীর স্বীকৃতি চেয়ে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছে এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি শাহজাদপুর সরকারি কলেজের ব্যবসা শাখার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। নাম আয়শা ইসলাম ঊর্মি।
গত রবিবার (২৯ জুন) দুপুরে উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা গ্রামের প্রেমিক রাজের বাড়িতে অবস্থান করছেন এই শিক্ষার্থী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহজাদপুর থানার এসআই এরশাদুল হক।
গত রবিবার দুপুরে উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা গ্রামের প্রেমিক রাজের বাড়িতে অবস্থান নিলে কৌশলে রাজ ও তার পরিবারের রোকজন পালিয়ে যায়। এদিকে অনশনের ৩ দিন হয়ে গেলেও প্রেমিক রাজ পলাতক থাকায় বিষয়টি সুরাহা করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম।
অনশনরত ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, রাউতরা গ্রামের হিরুর ছেলে ‘রাজ’ তার সহপাঠি হওয়ার সুবাদে গত দেড় বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্কের একপর্যায়ে তারা ১ বছর আগে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে বন্ধু-বান্ধবের উপস্থিতিতে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।
আরও জানা যায়, নাটকীয় ঐ বিয়ের মাধ্যমেই তারা একাধিকবার শারিরিক সম্পর্কে জড়ান। পরে ভূক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর পেটে বাচ্চা আসলে প্রেমিক রাজের সম্মতিতে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে গিয়ে গর্ভপাত করান। এই ঘটনার পরে দুপক্ষের পরিবারের সম্মতিতে সংসার শুরুর কথা থাকলেও প্রেমিক রাজ বিভিন্ন ধরণের টালবাহানা করতে থাকে। প্রেমিক রাজের এ ধরণের টালবাহানা প্রেমিকা আয়শা ইসলামের কাছে সনদেহ জনক মনে হলে তিনি রাজকে বিবাহের করতে বলেন। কিন্তু প্রেমিক রাজ তাদের এই বিয়েকে অস্বীকার করে এবং প্রেমিকা আয়শা ইসলামকে অন্য কাউকে বিয়ে করতে বলেন।
এর পরেই গত রবিবার পরিক্ষা শেষ করেই আয়শা ইসলাম প্রেমিক রাজের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করে।
ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘রাজের পরিবার আমাকে তাদের বাসা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য মারধর ও বিভ্ন্নি ধরণের হুমকি প্রদান করেন। এর পরেও তারা আমাকে তাড়িয়ে দিতে না পেরে নানা ধরণের ছলচাতুড়ি করতে শুরু করে। এর পরেও তারা আমাকে তাড়িয়ে দিতে না পেরে গা ঢাকা দেয়।’
ভূক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দিলে তিনি ওই বাড়িতেই আত্মহত্যা করবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম জানান, স্ত্রীর স্বীকৃতি চেয়ে মেয়েটি অনশন করছে। প্রেমিক রাজকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযুক্ত রাজের পরিবারের কেউ বাসায় না থাকায় আপাতত কিছু করাও সম্ভব হচ্ছে না। মেয়েটির নিরাপত্তার কথা ভেবে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা তিনি।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার এসআই এরশাদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জটিল আকার ধারন করা এ বিষয়টি স্থানীয় সমাজসেবা অফিসকে অবহিত করা হয়েছে তারাই প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করবে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম