প্রকাশ: রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫, ২:৪৬ পিএম আপডেট: ২৯.০৬.২০২৫ ৩:১৪ PM

থানার কথা শুনলেই কারো মনে প্রথমে যে ছবি ভেসে ওঠে, তা হলো ফাইলের স্তূপ, ব্যস্ততা আর অভিযোগের ভিড়। কিন্তু কুমিল্লার মেঘনা থানায় ঢুকলে সে চেনা ভাবনাকে উল্টে দিতে বাধ্য যে কেউ। চোখে পড়বে সাজানো গোছানো একটি বাগান, তার মাঝে রঙিন ফুলের রাজ্য আর সবুজ গাছগাছালির শান্ত ছায়া, যেন থানা নয় কোনো উদ্যানে প্রবেশ করলেন!
থানার প্রবেশপথের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে এক মনকাড়া বোগেনভিলিয়া গাছ। থানা ভবনের একাংশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এর জ্যোৎস্নার মতো নরম গোলাপি ফুল। পুরো গাছটি যেন সবুজ-গোলাপির এক অপূর্ব মিশেল। থমথমে পরিবেশ নয়, এখানে আগত কারো চোখে ও মনে প্রথমেই পড়ে প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্য।
থানার চারপাশে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও শোভাময় গাছ। প্রতিটি গাছের গোড়া পরিচর্যাপ্রাপ্ত, পরিচ্ছন্ন ও ছাঁটা-যা দেখলেই বোঝা যায়, এগুলোর যত্ন হয় নিয়মিত। এই সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে থানার কর্মকর্তারাই সামনে থেকে কাজ করছেন।
স্থানীয় একজন বলেন, “আমরা প্রতিদিন থানার পাশ দিয়ে যাই। যারা গাছগুলোতে পানি দেন বা ছাঁটেন, তাঁরা থানারই অফিসার। এটা দেখে ভালো লাগে, পুলিশের এমন পরিবেশপ্রেমী চেহারা তো আগে দেখা যায়নি।”
একটি থানার পরিবেশ শুধু কর্মস্থল নয়, বরং তার পরিচয়ের প্রতীকও। মেঘনা থানার সেই পরিচয়ে এখন যুক্ত হয়েছে গাছপালা ও ফুলের সুবাস। এখানকার অফিসাররা বিশ্বাস করেন, একটা শান্ত ও সুশোভিত পরিবেশ মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই কর্মব্যস্ততা ও দায়িত্বের মাঝেও তাঁরা গাছের যত্ন নিতে ভুল করেন না।
মেঘনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল একান্ত সাক্ষাৎকারে স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে ফুলগাছ ভালোবাসি। থানার প্রতিটি কোণকে যতটা সম্ভব সবুজ আর মনোরম রাখার চেষ্টা করি। আমার বিশ্বাস, একটি সুন্দর পরিবেশ শুধু কাজের গতিকে বাড়ায় না, থানায় আগত মানুষের মনেও প্রশান্তি এনে দেয়। গাছের যত্ন নেওয়া, ফুলগাছ লাগানো ও আমাদের প্রতিদিনকার রুটিনের অংশ হয়ে গেছে এগুলো। এছাড়াও, মেঘনা থানা এখন শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্র নয়, বরং একটি সবুজ ও প্রাণবন্ত উদ্যানের মতো-যেখানে দায়িত্বের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে প্রকৃতির ছোঁয়াও।
স্বদেশ প্রতিদিন/ কেআইকে