
ফেনীর সোনাগাজী ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ছোট ফেনী নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে হাজারো পরিবার। প্রতিদিন চোখের সামনে ভেঙে যাচ্ছে জমিজমা, বসতভিটা, ঘরবাড়ি- কেউ হারাচ্ছেন শেষ আশ্রয়টুকুও।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে দুই উপজেলার শত শত একর ফসলি জমি ও বহু বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে গত বছরের (২০২৪) ২৬ আগস্ট মুছাপুর রেগুলেটর ভেঙে পড়ার পর থেকেই ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়।
২০০৬-০৭ সালে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই রেগুলেটরটি উজানের পানির তীব্র চাপে একেবারে নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। এরপর থেকে জোয়ারের সময় ছোট ফেনী নদীতে ৮-১০ ফুট পর্যন্ত পানি উঠে, আর ভাটার সময় সেই পানির তোড়ে ধসে পড়ে নদীর পাড়।
সোনাগাজীর চরমজলিশপুর ও চরদরবেশ ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম চর গোপালগাঁও, চর বদরপুর, মিয়াজীঘাট, কাঁটাখিলা, আলামপুর, তেইল্লারঘাট, শাহীপুর, মোল্লারচরসহ বহু এলাকা এখন চরম ঝুঁকিতে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা, মসজিদ এমনকি বাজার ও সেতুও হুমকির মুখে।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর, ধনীপাড়া, চর হাজারী, চর পার্বতীসহ বহু এলাকার মানুষ নদী গিলছে চোখের সামনে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১০ হাজার পরিবার এখন সরাসরি ভাঙনের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই গরিব- একবার ঘর হারালে আর ফিরে পাওয়ার কোনো উপায় নেই তাদের।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ভাঙন ঠেকাতে সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। কিন্তু নদী খরস্রোতা হওয়ায় এই সাময়িক ব্যবস্থা খুব একটা কাজে দিচ্ছে না।
ফেনী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তার হোসেন মজুমদার বলেন, ‘ছোট ফেনী নদীর ভাঙন রোধে বি-স্ট্রং নামে একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১৩১ কোটি টাকার কাজ শিগগির শুরু হবে।’
তবে দুঃখজনকভাবে, ভেঙে যাওয়া মুছাপুর রেগুলেটর পুনঃনির্মাণের কোনো প্রকল্প এখনও হাতে নেয়া হয়নি।
নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে মুছাপুর রেগুলেটর ও কাজীরহাট সুইচ গেট পুনঃনির্মাণ করতে হবে। একইসঙ্গে, পুরো নদী তীর জুড়ে দীর্ঘমেয়াদি ভাঙনরোধ প্রকল্প হাতে না নিলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে এই অঞ্চলে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম