প্রকাশ: বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫, ৪:৪০ পিএম আপডেট: ১৮.০৬.২০২৫ ৫:২৭ PM

পালবাড়ি থেকে কালীগঞ্জ ১০ কিলোমিটার সড়ক এখন মরণফাঁদ।
যশোর- ঝিনাইদহ মহাসড়কের পালবাড়ি থেকে কালীগঞ্জ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের ১০ কিলোমিটার সড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
যশোর থেকে রাজধানীসহ আশপাশের জেলা কুষ্টিয়া, ঝিনাদহ, চুয়াডাঙ্গা জেলার যাতায়াতের যোগাযোগ মাধ্যমও এই সড়কটি। অথচ এই মহাসড়কে ইট, বালি, খোয়া ও পিচ উঠে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে যা চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ছে।
সামান্য বৃষ্টিতে এই মহাসড়কে বড় বড় গর্ত হয়ে খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটার সাথে সাথে ঘটছে দুর্ঘটনা। যারফলে প্রতিদিনই এই সড়ক দিয়ে শত শত যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনগুলো দুর্ঘটনায় পড়ছে বেশি। অনেক বাস ও ট্রাক সড়কের গর্তের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যাচ্ছে। এতে মৃত্যুসহ অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও তা কাজে আসছে না। কাজের মান খারাপ ও অতিবৃষ্টিতে সড়কগুলো আবারও আগের অবস্থায় ফিরেছে।
শহরের পালবাড়ীর ট্রাকচালক হারুণ মোল্লা বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের পুরোটা সময় ধরে দেখে আসছি যশোর-খুলনা মহাসড়ক সংস্কার হচ্ছে। কিন্তু শেষ যেন হচ্ছে না। সংস্কার শেষ করতে না করতেই তা ৬ মাসের মধ্যে ধসে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে দেখছি পিচের রাস্তায় ইটের সলিং বিছিয়ে উপযোগী করা হলেও সামান্য বৃষ্টিতে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
বাসচালক রহমত আলী বলেন, “পদ্মাসেতু নির্মাণের পর থেকে যশোর অঞ্চলের সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় এই অঞ্চলের সড়কের উন্নয়ন হয়নি। এখন যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে সামন্য বর্ষার নানা খানাখন্দকে ভরে গেছে এই রাস্তাগুলি। গাড়ি চালাতে খুবই অসুবিধা হচ্ছে।”
পালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আইয়ুব হোসেন মনা বলেন, “কয়েক বছর ধরে দেখে আসছি যশোর-ঝিনাইদহ সড়কে মাঝে মাঝে সংস্কার করা হয়। কিন্তু কী সংস্কার হয় তা বলা মুশকিল। কিছুদিন আগে দেখলাম পালবাড়ি মোড়ের সড়কের খানাখন্দকে ইট বিছানো হচ্ছে। যা সামান্য বৃষ্টি পরে মনে হচ্ছে ছোট খাটো জলাশয় এই সড়ক দিয়ে মানুষ কীভাবে চলাচল করবে তা ভেবে উঠতে পারছি না। আগের সরকার এসব সড়ক উন্নয়নের নামে শত শত কোটি টাকা লুটে নিয়ে গেছে। এখন যেনো সেই পরিস্থিতি চলছে, কারো কোনো নজর নেই।”
যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়ক উন্নয়ন করতে হলে এখন টেন্ডার করা জরুরি। সেটি দীর্ঘ প্রসেসিং। যে কারণে আপাতত সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ইটের সলিং ও এইচবিবি করে উপযোগী করা হচ্ছে।”
তিনি আরো বলেন, “যশোর অঞ্চলের সড়ক ও মহাসড়কগুলোর অবস্থা গত বছরও ভালো ছিলো। গতবছরের টানা বর্ষার কারণে রাস্তাগুলি নষ্ট হওয়া শুরু করে। বর্ষার পরে সব সড়কেই রিপিয়ারিং করা হয়েছে। কিছু কিছু জায়গার নতুন করে সমস্যা হচ্ছে। পিচ ও খোয়া উঠে গেছে। যার ফলে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। দ্রুতই এসব সমস্যা সমাধানের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হবে।”