প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫, ৯:৩২ AM

বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও গর্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকার পরও ইরানের লাগাতার মিসাইল হামলায় একরকম ব্যর্থ হয়ে পড়েছে ইসরায়েল। একের পর এক হাইপারসনিক মিসাইলের আঘাতে দেশটির সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে- বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত দেশ হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল কেন থামাতে পারছে না ইরানকে?
মূলত তিন স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে ইসরায়েলের। স্বল্প মধ্যম ও দূরবর্তী যে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের মাটি স্পর্শ করার আগে আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে দেশটির। এতদিন ধরে এমনই গৌরব নিয়ে চলেছে ইসরাইলী প্রতিরক্ষাবাহিনী।
কিন্তু সেই অহংকার মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে ইরানের হাইপারসনিক মিসাইল। শুরুতে সাধারণ মিসাইল দিয়ে হামলা চালিয়ে তেমন সাফল্য না পেলেও সুপারসনিকের জাদুতে এবার তছনছ হতে শুরু করেছে ইসরায়েলের সাজানো বাগান।
হাইপারসনিক মিসাইল হলো এমন এক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, যা শব্দের গতির চেয়ে কমপক্ষে পাঁচ গুণ দ্রুত ছুটতে পারে। এরা এতটাই দ্রুত যে প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো অনেক সময় একে শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে না। প্রশ্ন হলো কত দ্রুতো ছুটতে পারে এই হাইপারসনিক?
শব্দের গতি যেখানে ঘণ্টায় ১ হাজার ২৩৫ কিমি সেখানে হাইপারসনিক গতি ঘণ্টায় ৬ হাজার ১৭৪ কিমি বা তার চেয়েও বেশি। একটি হাইপারসনিক মিসাইল ১ হাজার কিমি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে মাত্র ৮-১০ মিনিটে পৌঁছে যেতে পারে।
হাইপারসনিক মিসাইল কীভাবে কাজ করে লঞ্চ প্যাড থেকে উৎক্ষেপণ পর শুরুতেই মিসাইলটি উচ্চগতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এর পর ধীরে ধীরে গতি বাড়তে থাকে এমনকি রাডার ফাঁকি দিয়ে হঠাৎ দিক পরিবর্তন করতে পারে হাইপারসনিক। সব শেষ টার্গেটের ওপর নিখুঁত আঘাত হানে এই মারণাস্ত্র।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান প্রথমে সাধারণ মিসাইল দিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যস্ত রেখেছে, এরপর হাইপারসনিক মিসাইল দিয়ে সুরক্ষিত স্থানগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এই ‘ব্লাইন্ড স্পট’ তৈরি করেই তারা সফল হয়েছে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করতে।
সূত্র: দ্যা টাইমস
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম