
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকানরা একদিকে ইসরায়েলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন, অন্যদিকে ডেমোক্রেটদের একটি অংশ এই হামলার সমালোচনা করেছেন।
হামলার প্রেক্ষাপট
শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে ইরানে ইসরায়েলের বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক আলোচনায় আগ্রহী। তবে হামলার পর তেহরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কাও বাড়ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সাফাই
হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জড়িত নয়—এমনটি জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “আজ রাতে ইসরায়েল এককভাবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা এতে অংশ নেই। আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো—মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়া।” তিনি আরও বলেন, “ইরান যেন কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্র বা আমাদের স্বার্থের ক্ষতি না করে।”
রিপাবলিকানদের ‘ইসরায়েল প্রীতি’
রিপাবলিকান দলের বহু সদস্য ইসরায়েলের জন্য ‘প্রার্থনার’ আহ্বান জানান, যদিও হামলার সূচনাকারী ছিল ইসরায়েলই। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম একধাপ এগিয়ে লিখেছেন, “গেম অন। প্রার্থনা করুন ইসরায়েলের জন্য।”
হাউস স্পিকার মাইক জনসন সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ইসরায়েল সঠিক কাজ করেছে। আত্মরক্ষার অধিকার তাদের আছে।”
সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন কিছুটা সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সেনেট সবসময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও আমাদের মিত্র ইসরায়েলের পাশে থাকবে।”
প্রগতিশীল ডেমোক্রেটদের কড়া সমালোচনা
ডেমোক্রেট দলের বেশ কিছু সদস্য হামলাটিকে উসকানিমূলক উল্লেখ করে এর বিরোধিতা করেন। সিনেটর ক্রিস মারফি বলেন, “এই হামলা একরকম ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক উদ্যোগকে ধ্বংস করার জন্যই চালানো হয়েছে।”
সিনেটর জ্যাক রিড বলেন, “এটি একটি বেপরোয়া সিদ্ধান্ত যা গোটা অঞ্চলকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।” তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি দ্রুত কূটনৈতিকভাবে সংকট নিরসনের আহ্বান জানান।
কংগ্রেসম্যান জোয়াকিন কাস্ট্রো সরাসরি বলেন, “নেতানিয়াহুর এই হামলা আমেরিকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সরাসরি অবমাননা। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি যদি সত্যিই কার্যকর হয়, তাহলে ট্রাম্প কীভাবে এমন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারেন যা আমেরিকান জনগণই চায় না?”
ডেমোক্রেটদের মধ্যে মতবিরোধ
তবে ডেমোক্রেটদের একটি অংশ ইসরায়েলের হামলাকে সমর্থন জানিয়েছেন। কংগ্রেসম্যান রিচি টরেস বলেন, “ইসরায়েল আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে।”
সিনেটর জন ফেটারম্যান হামলায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের প্রধান হোসেইন সালামির মৃত্যুতে খুশি প্রকাশ করে লেখেন, “থ্যাঙ্ক ইউ, নেক্সট!”
পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যু ও ভবিষ্যৎ
যদিও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না—তবু কিছু রাজনীতিক ইসরায়েলের হামলাকে ‘পরমাণু হুমকি’ মোকাবেলার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ডেমোক্রেট কংগ্রেসম্যান জর্জ ল্যাটিমার বলেন, “নিউক্লিয়ার সক্ষমতা সম্পন্ন ইরান শুধু ইসরায়েলের নয়, গোটা বিশ্বের জন্য হুমকি।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ