প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ জুন, ২০২৫, ৬:২৪ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় সরকারি রাস্তার পাশ থেকে রাতের আঁধারে প্রায় ৫০টি আকাশমণি ও মেহগনি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কাঠালী-মল্লিকবাড়ি এলজিইডি সড়কের মল্লিকবাড়ি ৯ নম্বর বাঁধসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই দশক আগে সরকার ওই সড়কের দুই পাশে প্রায় সাত শতাধিক আকাশমণি গাছের চারা রোপণ করে। এসব গাছের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় স্বপন মিয়ার স্ত্রী মোর্শিদা বেগমকে। সম্প্রতি ওই এলাকায় একটি কারখানার নির্মাণকাজ চলায় পাশেই ইটের উঁচু প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই গাছগুলো কেটে নিচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিনে অন্তত ৫০টি গাছ কেটে সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং আরও ১২টি গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে গাছগুলোর মালিকানা কেউ দাবি না করায় তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা সম্ভব হয়নি। পরে কিছু কাঠ স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তফা কামালের জিম্মায় রাখা হয়।
রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা মোর্শিদা বেগম বলেন, “২০১১ সালে আমাকে লিখিতভাবে গাছগুলোর দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারও ৭-৮ বছর আগে গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি রাতের আঁধারে কারখানার লোকজন গাছগুলো কেটে নিচ্ছে। বাঁধা দিতে গেলে তারা আমাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়।” তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানান।
গাছের ক্রেতা সিরাজ উদ্দিন বেপারী জানান, তিনি ২৫-২৬টি গাছ এক লাখ টাকা দিয়ে কিনেছেন এবং সাদিকুল নামের এক ব্যক্তিকে অগ্রিম টাকা দিয়েছেন। কয়েকটি গাছ কেটে নিলেও বাঁধার মুখে অবশিষ্ট গাছগুলো নিতে পারেননি।
ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল বলেন, “সরকারি রাস্তার পাশ থেকে বেশ কিছু গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। কিছু গাছ আমার জিম্মায় রাখা হয়েছিল, তবে বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাতে সেগুলোও চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি বিষয়টি ইউএনওকে জানিয়েছি।”
ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মালিকানা দাবি না করায় গাছ জব্দ করা যায়নি। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এক নারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, “বিষয়টি জানার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ