
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ‘ভাইজান বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি সন্ত্রাসী চক্রের গুলিতে মো. আরিফ (১৬) নামে এক কিশোর ছাত্রদলকর্মী নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই সহিংস ঘটনায় চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার ভোরে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আরিফ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের সন্দ্বীপ কলোনির বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিল সে। হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবার ও স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাটহাজারীর সন্দ্বীপ কলোনিতে ‘ভুট্টু-সুমন’ ও ‘সাখাওয়াত’ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের সুযোগে সক্রিয় হয়ে ওঠে 'ভাইজান বাহিনী' নামে একটি সন্ত্রাসী চক্র, যার নেতৃত্বে রয়েছে মহিউদ্দিন শিবলু বাচা ওরফে ‘ভাইজান’।
গত ৮ জুন রাত ১১টার দিকে ৫-৬ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী একটি সিএনজি ও দুটি মোটরসাইকেলে করে সন্দ্বীপ কলোনিতে আসে এবং সাখাওয়াতকে খোঁজে। স্থানীয়রা বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে গুলি ছোঁড়ে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয় কিশোর আরিফ।
প্রথমে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও আইসিইউ না থাকায় স্থানান্তর করা হয় সাজিনাজ নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে দুই দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
জানা যায়, নিহত আরিফ ছয় ভাই-বোনের মধ্যে চতুর্থ। ফতেয়াবাদ কলেজের পাশে একটি কারখানায় কাজ করত সে। তার বাবা আবুল ফয়েজ একজন রাজমিস্ত্রি, পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল মধ্যবিত্ত সীমার নিচে।
তার ভাই অভিযোগ করেন, “ভাইজান বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি ও দখলদারিত্ব চালিয়ে যাচ্ছে, আর প্রশাসন নিশ্চুপ। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এই বাহিনী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ভাইজান’ নামে পরিচিত শিবলু বাচা একজন কুখ্যাত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবসা, ডাকাতি, জমি দখল, গরু ও রড চুরির মতো নানা অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়ে এক বছর কারাগারে ছিলেন। ২০২২ সালে আরও একবার গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। কিন্তু জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় অপরাধ চক্র গঠন করে এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
ছাত্রদলের উত্তর জেলা সভাপতি তকিবুল হাসান চৌধুরী তকী বলেন, “আরিফ একজন নিষ্ঠাবান ছাত্রদলকর্মী ছিল। তার ওপর হামলা নিছক ব্যক্তিগত নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে ঘটানো হয়েছে। আমরা এই হত্যার ন্যায়বিচার চাই।”
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, “এখনও থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে ঘটনার পর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর