প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০২৫, ৮:০৭ পিএম

দিনমজুর বাবার ছেলে মো. মোশারফ শেখ (৪৭)। লেখাপড়া তেমন না করলেও ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসায় বাবুর্চি হিসেবে চাকরি পান তিনি। এরপর গত প্রায় তিন দশকে তার জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ফরিদপুরের শহর ও গ্রামে একাধিক সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং নিজ গ্রামে জমি দখলসহ সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেছেন।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বড় কামদিয়া গ্রামের কৃষক চাঁনমিয়া ফকিরের ছেলে সাগর মিয়া সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, মোশারফ তাদের ৪৩ শতাংশ জমি দখল করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তাদের দাবি, জমি ছাড়ার কথা বললে বিভিন্ন সময় হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে।
স্থানীয় আরও কয়েকজন জানান, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন মোশারফ। গ্রামের সাধারণ মানুষ, এমনকি নিজের পরিবারের সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হয় তার।
মোশারফের প্রতিবেশীরা জানান, শৈশবে মোশারফ অন্যের হোটেলে বাবুর্চির কাজ করতেন। পিতার সম্পত্তি হিসেবে মাত্র ৫ শতাংশ জমি পেয়েছিলেন। বর্তমানে কামদিয়া গ্রামে ২ বিঘা জমিতে পাকা বাড়ি, শহরের বিভিন্ন এলাকায় জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও গাড়ি রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষমতার সুবিধা নিয়ে তিনি জমি দখল, সালিশ বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছেন। তবে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যুবলীগ নেতা নূর ইসলামের কারণে সবসময় প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি বলেও অনেকে জানিয়েছেন।
মোশারফের বিরুদ্ধে জমি দখলের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান। তিনি বলেন, "অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ফরিদপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসানউজ্জামান বলেন, “একজন বাবুর্চি হিসেবে কাজ করলেও তার আয়-উপার্জনের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিক। বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত।”
অভিযোগের বিষয়ে মোশারফ শেখের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ এবং গ্রামের বাড়িতেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ