
গাজায় ৩০ বছর বয়সী মৎস্যজীবী মাদলীন কুলাবের নামানুসারে সাহায্যবাহী জাহাজ ‘মাদলীন’ ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙতে গাজার দিকে যাত্রা শুরু করেছিল। গত এক সপ্তাহ ধরে মাদলীন উদ্বেগ আর আশার মিশ্রণে জাহাজটির খবর অনুসরণ করছিলেন।
এই জাহাজটি চালু করেছিল ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’ (FFC) নামে একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী। তবে সোমবার সকালে জানানো হয়, ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় ওই জাহাজটি আটক করে জাহাজের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে রয়েছেন সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ।
মাদলীন কুলাব আল জাজিরাকে বলেন, “আমি এই ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম, তবু আশা করেছিলাম যেন কোনওভাবে অবরোধ ভেঙে গাজায় পৌঁছানো যায়।”
জাহাজ আটকানোর আগের রাতে তিনি ভিডিও কলে কথা বলেছেন জাহাজের সদস্যদের সঙ্গে। ফ্রান্সের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসান, যিনি ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত, গাজা দর্শনের স্বপ্নের কথা জানান। মাদলীন বলেন, “তার জীবন উৎসর্গ ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি, কিন্তু সেই স্বপ্নও ইসরায়েলের কারণে অসম্ভব হয়েছে।”
২০০৭ সাল থেকে গাজায় চলছে কঠোর অবরোধ, যা আকাশ, ভূমি ও সমুদ্রপথে ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রাকে ক্রমেই সংকীর্ণ করে তুলেছে। চলমান যুদ্ধে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছেন। মাদলীন বলেন, “আমরা এমন এক জায়গায় বাস করছি যা পুরোপুরি পৃথিবীর সঙ্গে বিচ্ছিন্ন। আগের সব প্রয়াস সামরিক হস্তক্ষেপে থেমে গেছে।”
জাহাজের অভিযান ও আটককাণ্ড আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে। মাদলীন মনে করেন, এটি গাজার মানুষের দীর্ঘ অসহনীয় কষ্টের প্রতিচ্ছবি। “আমাদের কষ্টও একরকম—যা মিডিয়ার সাময়িক আলোয় উঠে আসে, তারপর দ্রুত মিলিয়ে যায়।”
জাহাজের কর্মীদের নিরাপত্তা ও মুক্তি কামনা করেন তিনি। গতকাল গ্রেটা থুনবার্গ ইসরায়েল থেকে বিতাড়িত হয়েছেন।
“তারা মানবতার মহৎ বার্তা বিশ্বে পৌঁছে দিয়েছে,” মাদলীন জানান, “কিন্তু এখন আর কেউ যেন কিছু করার জন্য এগিয়ে আসে, সে আশা নেই আমার।”
গাজার মানুষ খাদ্য ও জীবনসংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মে মাসে ইসরায়েল আংশিক অবরোধ শিথিল করলেও সাহায্যকেন্দ্রে ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মাদলীন বললেন, “যুদ্ধে, দুর্ভিক্ষে, কষ্টে আমি এবং আমার পরিবারসহ সবাই ডুবে আছি।”
সূত্র আল জাজিরা
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ