
ঈদুল আজহায় গরীব দুঃখীরা মানুষের বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা কোরবানির মাংস বিক্রি করে অর্থের জোগান দিয়ে থাকেন নানা কারণে। অপ্রয়োজনীয় মাংস রাখার জায়গা নেই। অনেকের আবার ঘরবাড়িও নেই। অনেকেই আছেন ভবঘুরে প্রকৃতির। আবার অনেকেই আছেন মাংস রান্না করার উপকরণ না থাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
কেউ কেউ আবার খাবারের জন্য যেটুকু প্রয়োজন সেটুকু রেখে অবশিষ্ট মাংস বিক্রি করছেন। এতে মাংস খাওয়াও হলো পাশাপাশি অর্থ উপার্জনও হলো। গত কয়েক বছর যাবত কোরবানির ঈদের দেখা যায় কোরবানির মাংস বিক্রির হাটগুলো বিকাল হতেই জমে উঠে।
প্রতি কেজি মাংস বিক্রি হয় ৫ থেকে ৬ শ টাকা দরে। এই মাংসের ক্রেতা মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। আর বিক্রয় করছেন মানুষের বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা হতদরিদ্র গরীব দুঃখী মানুষ। এমন কিছু পরিবার আছে যারা নিজেরা কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য নেই এমনকি ঈদের দিনে খাবারের জন্য কারো বাড়ি থেকে গিয়ে মাংস চেয়ে আনবে সেটাও সম্ভব নয়। তাই শহরের বিভিন্ন অলি গলিতে কোরবানির মাংস বিক্রির হাট থেকেই কিছুটা কম দামে কিনে নেন ঈদের দিনের জন্য মাংস। তবে একটা বিষয় লক্ষণীয় এই হাটেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্রেতাদের বেশির ভাগই ছিল হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য ও নিম্নবিত্ত লোক। এ বছর ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে ভৈরবে সামর্থ্যবান অসংখ্য গরু জবাই করেছেন। গরু জবাই শেষে কসাই বা দরিদ্রদের দিয়ে মাংস কাটিয়ে ধর্মীয় নিয়মানুযায়ী বিলিয়ে দিয়েছেন হত-দরিদ্রদের মাঝে। দিনভর সংগ্রহ করা মাংস কেউ নিচ্ছে পরিবারের চাহিদা মেটাতে আবার কেউ বা বিক্রি করা জন্য।
উপজেলার পৌর শহরের বঙ্গবন্ধু সরণি, মনমরা ব্রিজ, বাসস্ট্যান্ডে দুর্জয় মোড়, রেলওয়ে স্টেশন এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন মোড়ে দেখা যায় হতদরিদ্রদের সংগ্রহকৃত কোরবানির মাংস বিক্রি করতে। এ সকল বিক্রেতারা এসেছে ভৈরবের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে। তাদের মধ্যে অনেকেই ভিক্ষুক, শ্রমজীবী ও দিন মজুর নারী পুরুষ। তারা কোরবানি দাতাদের বাসা বাড়ি থেকে সাহায্য চেয়ে মাংস সংগ্রহ করে থাকে। সংগ্রহকৃত মাংসের অপ্রয়োজনীয় মাংসগুলো সংরক্ষণের অভাবে আবার কেউ বা অর্থের জোগান দিতে মাংসগুলো বিক্রি করে দেয়।
প্রকার ভেদে প্রতি কেজি মাংসের দাম পেয়ে থাকে ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। এদের মধ্যে আবার রয়েছে মধ্যস্বত্বভোগী।
বিক্রেতা রসিদ মিয়া বলেন, আমার ঘর বাড়ি কিছুই নেই। যেখানে রাইত সেখানেই কাইত। অর্থাৎ যেখানে রাত সেখানেই ঘুমাই। ঈদের দিন মানুষের বাড়িতে গেলে গরীব দুঃখীদের মাঝে মাংস বিতরণ করেন। তাদের মাঝে আমি ও একজন। দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রায় ৫ কেজির মত মাংস পেয়েছি। আমি এত মাংস দিয়ে কি করব ? মাংস যে রান্না করে খাব সে উপায়ও নেই। তাই এগুলো বিক্রি করে দিয়ে কিছু টাকা রোজগার করছি। সে টাকা দিয়ে কয়েক দিন হোটেলে ভালমন্দ খেতে পারব।
বেদে সম্প্রদায়ের শান্তা বেগম বলেন, আমরা গরীব মানুষ। মানুষের বাড়ি থেকে কয়েক কেজি মাংস পেয়েছি। নিজেদের খাবারের জন্য কিছুটা রেখে দিয়ে বাকিগুলো বিক্রি করে টাকা জোগাড় করছি। মাংস পাকাতে গেলেতো মসলা লাগবে। ঘরেতো আর সব সময় মাংসের মসলা থাকে না। ৩ কেজি মাংস বিক্রি করে ১৮ শ টাকা পেয়েছি। এ টাকায় চলে যাবে কয়েকদিন।
স্থানীয় ইমাম মুফতি মো. শফিকুল ইসলামের মতে গরিবরা তাদের সংগ্রহকৃত মাংসের কিছুটা রেখে যদি অতিরিক্ত মাংস বিক্রি করে পরিবারের অর্থ জোগান দেয় এতে কোন গুনাহ হবে না।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর