
জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে ১২টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে
যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার (৪ জুন) দেশটির প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
এই ঘোষণাটি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদের বিতর্কিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। এতে আফগানিস্তান, বার্মা (মিয়ানমার), চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেন অর্থাৎ এই ১২টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়াও আংশিক প্রবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে বরুণ্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান এবং ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের উপরও।
উল্লেখ্য, ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই ১৯টি দেশের যে নাগরিকরা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা বৈধ ভিসাধারী, কিংবা যাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ‘জাতীয় স্বার্থে’ প্রয়োজন- তাদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন তার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট করে বলেন, আমেরিকানদের সুরক্ষিত রাখতে যে বিপজ্জনক বিদেশি সত্তাগুলো এ দেশে আসতে চায়, তারা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি পূরণ করছেন।
তিনি আরো বলেন, এই সাধারণবুদ্ধিসম্পন্ন নিষেধাজ্ঞাগুলো দেশভিত্তিক এবং যেসব দেশে যথাযথ যাচাইপ্রক্রিয়ার অভাব, উচ্চ ভিসা-ওভারস্টে হার, বা পরিচয় ও হুমকিসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে ব্যর্থতা রয়েছে, সেগুলোকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তখনই এলো যখন ট্রাম্প প্রশাসন তার মেয়াদের প্রথম দিনে এক নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী অভিবাসীদের জন্য কঠোর যাচাই ও স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের মূল ভিত্তি ছিল জাতীয় নিরাপত্তা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম চার মাসের কার্যকালে দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অভিবাসন প্রবাহ এবং বৈধ অভিবাসনের পথ উভয় ক্ষেত্রেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।
আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা ছিল প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। যা ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রত্যাহার করে দেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি