
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দফায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা যুদ্ধবন্দিদের মধ্যে ‘সকলের বিনিময়ে সকল’ (all-for-all) বিনিময়ে সম্মত হয়েছেন। এটি দুই দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বন্দি বিনিময় হতে যাচ্ছে।
সোমবার (২ জুন) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এ আলোচনা শেষে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে বন্দি বিনিময় নিয়ে নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছে ইউক্রেন। আলোচনা শেষে জানানো হয়, দুই পক্ষ প্রায় ১,০০০ থেকে ১,২০০ জন করে মোট ২,০০০–২,৪০০ বন্দি বিনিময় করবে। এর পাশাপাশি, প্রায় ৬,০০০ সেনার মরদেহ হস্তান্তরেও তারা একমত হয়েছে।
তবে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল অভিযোগ করেছে, মস্কো এখনো কোনো শর্তহীন যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সম্মত হয়নি। কিয়েভ আগামী জুনের শেষের দিকে একটি নতুন বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়া যায়।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ, উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই কিসলিৎসিয়া এবং সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের উপপ্রধান ভাদিম স্কিবিৎসকির নেতৃত্ব দেন।
এরদোয়ানের উদ্যোগ
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠককে “অসাধারণ” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে একটি শান্তি সম্মেলন আয়োজনের ইচ্ছা আছে তার।
যুদ্ধবিরতির আশ্বাস মিলেনি
রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশ একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির জন্য স্মারক চুক্তি বিনিময় করেছে, তবে তাৎক্ষণিক কোনো অগ্রগতির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
প্রেক্ষাপট
এই আলোচনার ঠিক আগের দিন ইউক্রেন “অপারেশন স্পাইডারওয়েব” নামক অভিযানে রাশিয়ার অভ্যন্তরে বহু সামরিক বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব হামলা শান্তি আলোচনায় একটি বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই চালানো হয়েছে।
মূল তথ্যসংক্ষেপ:
বন্দি বিনিময় হবে প্রায় ১,২০০ জন করে উভয় পক্ষের
৬,০০০ সেনার মরদেহ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি
নতুন বৈঠকের প্রস্তাব জুনের শেষদিকে
রাশিয়া যুদ্ধবিরতিতে এখনো সম্মত হয়নি
এরদোয়ানের প্রস্তাব: পুতিন-জেলেনস্কি-ট্রাম্প শান্তি সম্মেলন
তথ্যসূত্র : আল জাজিরা
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ