
পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে জমজমাট রাজবাড়ীর গরু-ছাগলের হাটগুলো। সাধ্যের মধ্যে পছন্দের কোরবানির পশু কিনছে ক্রেতারা। তবে দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। হাটগুলোতে নিরাপত্তার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসন।
হাটে অসুস্থ গবাদিপশুর চিকিৎসায় রয়েছে মেডিকেল টিম। জেলায় এবার ২৩টি স্থানে কোরবানির পশু কেনা-বেচার হাট বসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি স্থায়ী ও সাতটি অস্থায়ী হাট রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রানুযায়ী, জেলায় আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য ৫৫ হাজার ৭৫০টি পশুর চাহিদা রয়েছে। কোরবানির উপযোগী পশু ক্রয় করা হয়েছে ৮৯ হাজার ৫৬৬টি। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্তত ৩৩ হাজার ৮১৬টি পশু পাঠানো যাবে দেশের বিভিন্ন এলাকার কোরবানির পশুর হাটে। এ বছর জেলার সাত হাজার ৭০৮টি ছোট-বড় খামারে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।
এছাড়া জেলার সাত হাজার ৭০৮ টি ছোট-বড় খামারে এ বছর কোরবানি যোগ্য গরু প্রস্তুত হয়েছে ৩০ হাজার ১১৭টি, মহিষ ২৩২টি, ছাগল ৫৮ হাজার ৭৪০টি, ভেড়া ৪৭৩টি ও অন্যান্য পশু চারটি প্রস্তুত হয়েছে।
সরেজমিনে রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুরে পৌর পশুরহাট ঘুরে দেখা গিয়েছে, জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রাক, নসিমন, ভটভটিসহ নানা রকম যানবাহনে হাটে পশু নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। হাটে মাঝারি গরুর সংখ্যা বেশি।
তবে বেশিরভাগ ক্রেতার অভিযোগ, গরু-ছাগলের চড়া দাম হাঁকা হচ্ছে। ফলে হাট ঘুরে পশু না কিনেই ফিরে যেতে হচ্ছে অনেক ক্রেতাকে।
কোরবানির জন্য ছাগল কিনতে আসা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, হাটে পর্যাপ্ত গরু-ছাগল রয়েছে। তবে দাম একটু বেশি চাইছেন বিক্রেতারা।
গরু কিনতে আসা ক্রেতা শফিকুল মল্লিক বলেন, গত কয়েক দিন ধরে আমরা জেলার কয়েকটি হাটে গরু দেখেছি। তবে এখনও কাঙ্ক্ষিত দামে গরু মেলেনি। দাম একটু বেশি চাইছেন বিক্রেতারা। প্রকৃত খামারির তুলনায় হাটে ব্যাপারী বেশি।
গরু ব্যবসায়ী করিম মোল্লা বলেন, গরু যে দামে কেনা, তার থেকেও দাম কম বলছে ক্রেতারা। গরু অনুযায়ী গরুর দাম অনেক কম বলায় তেমন বেচা-কেনা হচ্ছে না। দেশী ও মাঝারি গরু কেনা লোকের সংখ্যা এখানে বেশি।
ছাগল বিক্রেতা জাহিদ শেখ বলেন, চারটি ছাগল এনেছিলাম। দুটো বিক্রি করেছি। আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় ক্রেতা কম, তাই ফিরে যাচ্ছি। হাটে বড় ছাগলের ক্রেতা নেই।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস জানান, গরুর হাটে আমাদের মেডিকেল টিম কাজ করছে। প্রাকৃতিক খাবারে গরু পালনে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো হরমোন বা কেমিক্যাল যাতে ব্যবহার না করা সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি আমরা। এই হাটে যে গরুগুলো উঠেছে সেগুলো সম্পূর্ণ সুস্থ গরু। হাটে দেশি গরুর সংখ্যা বেশি।
রাজবাড়ী পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত পশুরহাট থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত পুলিশ ওই হাটে থাকবে এবং টহল দিবে। চাঁদাবাজি ও হয়রানি যাতে না হয় সেদিকে নজর রয়েছে আমাদের। জাল নোটের কোনো বিষয় যদি কারও নজরে আসে, তাহলে থানা পুলিশকে অবগত করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি