বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
জবিতে ছাত্রআন্দোলনে বাধাদানকারী ফ্যাসিবাদী প্রশাসকরা আছেন নিরাপদে
প্রকাশ: সোমবার, ২ জুন, ২০২৫, ১১:২৭ AM

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রআন্দোলনে বাধাদানকারী ফ্যাসিবাদী প্রশাসকরা আছেন নিরাপদে। জুলাই আন্দোলন ছিলো সমগ্র বাংলাদেশ ছাত্র-জনতার আন্দোলন। যেখানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা কোটা বিরোধী আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ে তার সাথে যোগ দেয় সাধারণ মানুষ। এই আন্দোলনেড়র নেতৃত্বে থাকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। আন্দোলন চলাকালিন সময়ে সরকার সমর্থীত প্রশাসন ছাত্রদের বিরোধিতা করতে থাকে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তার তার ব্যাতিক্রম হয়নি। 

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিস ছিল তার নেতৃত্বে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ইসলামের ইতিহাস ও সাংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড.জাহাঙ্গীর'র নেতৃত্বে আন্দোলনকারী ছাত্রদের প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়েছে।  ছায়া সঙ্গী হিসেবে ছিলেন সহকারী প্রক্টর ও ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিউটন হাওলাদের ও সহকারী প্রক্টর ও ইসলামিক ইস্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজিদ জাহান সৈকত। তারা আন্দোলনকারী ছাত্রদের গ্রেফতার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি করেছেন। 

নিউটন হাওলাদার ছাত্রজীবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাথে সংযুক্ত ছিলেন। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। সাজিদ জাহান সৈকত বিশ্ববিদ্যালয়ে বহাল তবিয়তে আছেন। বর্তমানে তিনি রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার পৌর আওয়ামীলীগের সদস্য হিসেবে আছেন। ছিলেন নিষিদ্ধ সংগঠন  ছাত্রলীগের কেন্দ্র কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক  ও  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি । 

অনেক আওয়ামীপন্থী শিক্ষক রং পরিবর্তন করে সাদা দলে মিশে যাচ্ছে তার মধ্যে আব্দুল মালেক অন্যতম। সাবেক ভিসি অধ্যাপক সাদেকা হালিম প্রশাসনের তিনি বহিরাগমন পরিচালক ছিলেন। তিনি বর্তমানে খুবই সরব, বিভিন্ন অছিলায় প্রশাসনের কাছাকাছি থাকছেন, অতীতে তাই হয়েছে। তিনি সাদেকা হালিম প্রশাসনের ছায়া ভিসি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জুলাই আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাগমন পরিচালক ও ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড আব্দুল মালেক ছাত্রলীগের সহায়তায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের নির্যাতন করেছেন। তিনি সাবেক প্রক্টর জাহাঙ্গীরকে দিয়ে ছাত্র আন্দোলনের সময় অনেক ছাত্র গ্রেফতার করিয়েছিল বলে অভিযোগ আছে। 

যাত্রাবাড়িতে যে ছাত্ররা গ্রেফতার হয়েছে তার পেছনে তার হাত আছে বলে জানা যায়। সূত্রাপুর থানায় যারা গ্রেফতার হয়েছে বিশেষ করে আগস্টে সেখানে সে নেতৃত্ব দিয়েছে বলে জানা যায়। পুলিশকে আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন এবং পরবর্তিতে গ্রেফতার ও নির্যাতনের মত ঘটনা ঘটেছে এসবের পিছনে তার হাত ছিলো বলে জানা যায় ।  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আলবিরুনী হলের ছাত্র থাকা অবস্থায়, ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে ফাউ খাওয়া, চাঁদাবাজি করা, সহপাটি ও জুনিয়ারদের হয়রানি এসব করেছেন অহরহ। ২০১০ সালে তার নেতৃত্বে চাঁদাবাজি কেন্দ্রকরে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের মারামারি হয়। তিনি আসামি হয়েছিলেন জাতীয় দৈনিক প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে। এমনকি জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়েও তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। পদ আছে আওয়ামী লীগে উপ কমিটিতেও।

সিএসসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড আমিনুল ইসলাম আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে প্রশাসন এবং পুলিশকে তিনি সরবরাহ করতেন বলে অভিযোগ আছে।  জুলাই আন্দোলনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি পরিচালক ছিলেন।ক্ষমতা ব্যবহার করে  ফুটেজ সংগ্রহ করে সাবেক  উপাচার্য  সাদেকা হালিমের মাধ্যমে প্রশাসনকে দিতেন, যেটা  দেখে অনেক ছাত্র গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি ছাত্রজীবনে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র লীগ করতেন। তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত, আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি উপকমিটির সক্রিয় সদস্য। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালিন সময় থেকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ অনুস্মরণ করে আসছে । জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৪নং ধারার ৪নং উপধারায় উল্লেখ আছে, চাকরিরত অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না। কালক্রমে শিক্ষক কর্মকর্তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পদ নিয়ে এসেছেন। এই পদধারী শিক্ষকেরা পদ ব্যবহার করে প্রশাসন থেকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ উপেক্ষা করে কর্মরত অবস্থায় শিক্ষকরা নিয়েছেন রাজনৈতিক দলের পদ-পদবি। অনেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রও তুলেছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর

আরও সংবাদ   বিষয়:  জবি  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close