প্রকাশ: রবিবার, ১ জুন, ২০২৫, ১২:১১ পিএম

লালমনিরহাট শহরের আলোরুপা মোড়ের জেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (৩১ মে) রাত ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতারা জানান, রংপুরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বাড়িতে হামলার প্রতিবাদে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেলে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন শেষে নেতাকর্মীরা জাপা কার্যালয় ত্যাগ করেন। পরে রাত ১১টার দিকে ১৫-২০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি জাপা কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করে। পরে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। জাপা নেতারা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
লালমনিরহাটের বিডিআর গেটগামী পথচারী শফিকুল আলম বলেন, ‘মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় দেখলাম, দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। কিছুক্ষণ পর আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে।’
লালমনিরহাট পৌর জাপার আহ্বায়ক আলমগীর চৌধুরী বলেন, ‘জাপা কার্যালয়ের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। ভেতরে থাকা আলমারি, চেয়ার, টেবিলসহ সব আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়া পার্টির অফিসে থাকা টিভিসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। পরে কিছু চেয়ার কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এনে ভেতরে ও বাইরে আগুন লাগিয়ে দেয়। আমরা আমাদের পার্টি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবগত করেছি। দ্রুত থানায় অভিযোগ দেওয়া হবে।’
লালমনিরহাট জেলা জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রতন বলেন, ‘রাত ৮ টার দিকে আমরা কার্যালয় থেকে চলে যাই। পরে রাত ১১ টার পর টেলিফোনে জানতে পারি, আমাদের কার্যালয়ে কে বা কারা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’
এ সময় তিনি ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে জাতীয় পার্টির অবস্থান ও অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এমন দেশ আমরা চাইনি। জাতীয় পার্টি হিংসার রাজনীতি করে না। দ্রুত এ ঘটনার তদন্ত করে দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।’
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরনবী বলেন, ‘কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম