প্রকাশ: শনিবার, ৩১ মে, ২০২৫, ১২:৩২ AM

নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া আমেনা হাসপাতালে এক মর্মস্পর্শী ঘটনার জন্ম হলো। শুক্রবার (৩০ মে) রাত ১০টার দিকে জন্ম নিলো জোড়া লাগানো দুই কন্যা শিশু। তবে পৃথিবীর আলো দেখা হয়নি তাদের। নিঃশ্বাস ফেলার আগেই থেমে গেছে তাদের পথচলা। জন্মের আগেই মৃত্যু হয়েছে তাদের।
জানা যায়, পার্শ্ববর্তী বাগাতিপাড়া উপজেলার চন্দ্রখৈল গ্রামের বাসিন্দা সুমন আলীর ২৪ বছর বয়সী স্ত্রী জরুফা খাতুন বৃহস্পতিবার বিকেলে আমেনা হাসপাতালে ভর্তি হন। আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার গর্ভে জমজ শিশু রয়েছে। পরদিন রাতে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম হয় এই ব্যতিক্রমী জোড়া শিশুর।
জন্ম নেওয়া শিশুদুটি মাথা থেকে বুক পর্যন্ত জোড়া ছিল। চারটি হাত একে অপরকে আঁকড়ে ধরে রাখা, আর আলাদা চারটি পা ছিল তাদের। দেখে মনে হচ্ছিল—মায়ের গর্ভেই যেন চিরকাল পরস্পরের সঙ্গে ভালোবাসায় বাঁধা ছিল তারা।
মা জরুফা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সাত মাস ২৮ দিনের মাথায় আমার সন্তানদের জন্ম হলো। আমার মনে হয়, ওরা গর্ভেই মারা গেছে। ওরা আমাদের দ্বিতীয় সন্তান। প্রথম সন্তান একটি মেয়ে, যার বয়স এখন সাত বছর।”
আমেনা হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আনছারুল হক বলেন, “আমরা বিভিন্ন সময় মিডিয়ায় এমন জোড়া লাগানো শিশুর জন্মের খবর দেখে থাকি। জীবিত জন্ম নিলে অনেক সময় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করার চেষ্টা করা হয়। তবে সবসময় তা সফল হয় না। এই দুই কন্যা শিশু ইমম্যাচিউরড (অপরিপক্ব) ছিল এবং মৃত অবস্থায় জন্ম নিয়েছে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর