প্রকাশ: বুধবার, ২৮ মে, ২০২৫, ১২:৩৪ AM

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশে নেমে এসেছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সাময়িক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই হার ছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ। কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাওয়ার ফলে সামগ্রিক অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়েছে, যদিও শিল্প খাতে কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে জিডিপির আকার ধরা হয়েছিল ৫৫ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা। তবে সাময়িক হিসাবে এর আকার দাঁড়িয়েছে ৫৫ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় কাছাকাছি। মার্কিন ডলারে এই পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬২ বিলিয়ন ডলার।
তিনটি বৃহৎ খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমে হয়েছে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। সেবা খাতেও প্রবৃদ্ধির হার হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরে ছিল ৫ দশমিক ০৯ শতাংশ। তবে শিল্প খাতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে, যেখানে প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আগের বছর এই হার ছিল ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ।
অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের হারেও মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। জিডিপির তুলনায় বিনিয়োগের হার কমে হয়েছে ২৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ৩০ দশমিক ৭০ শতাংশ। দেশজ সঞ্চয়ের হারও কমে দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ২৫ শতাংশে। তবে জাতীয় সঞ্চয়ের হার কিছুটা বেড়ে হয়েছে ২৯ দশমিক ০১ শতাংশ, যেখানে আগের বছর এই হার ছিল ২৮ দশমিক ৪২ শতাংশ।
অর্থনীতির অন্যতম ইতিবাচক দিক হিসেবে মাথাপিছু আয়ের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরে মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২১১ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার ১০২ টাকা। মার্কিন ডলারে এই আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮২০ ডলার, যেখানে আগের বছর তা ছিল ২ হাজার ৭৩৮ ডলার।
বিবিএসের এই সাময়িক হিসাব দেশের অর্থনীতির চিত্রে একদিকে যেমন কিছুটা হতাশা তৈরি করেছে, অন্যদিকে মাথাপিছু আয়ের বৃদ্ধি ও শিল্প খাতের উন্নতি কিছুটা আশার আলো জাগাচ্ছে। তবে কৃষি ও সেবা খাতের উন্নয়নে মনোযোগ না দিলে আগামী অর্থবছরেও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদরা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর