প্রকাশ: রবিবার, ২৫ মে, ২০২৫, ১:১৫ পিএম

পদ্মা সেতু চালুর তিন বছর পার হলেও এখনো মোবাইল রিচার্জে চালু রয়েছে অতিরিক্ত ১ শতাংশ সারচার্জ। ২০১৬ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে চালু হওয়া এই কর এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি। ফলে প্রতি ১০০ টাকা মোবাইল রিচার্জে গ্রাহককে দিতে হচ্ছে ১ টাকা অতিরিক্ত সারচার্জ।
এ পর্যন্ত এই খাতে সরকার পেয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব। মোবাইল অপারেটররা বলছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হলেও গ্রাহকদের ওপর এই করের বোঝা রয়েই গেছে। আসন্ন বাজেটে এই সারচার্জ ও সিম কর প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে টেলিকম খাতের পক্ষ থেকে।
জানা যায়, পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ালে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। এর অংশ হিসেবে ২০১৬ সালের মার্চে মোবাইল সেবায় এক শতাংশ সারচার্জ আরোপ করা হয়।
মোবাইল অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ বছরে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যার মধ্যে এক শতাংশ হারে সারচার্জ আদায় হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে মোবাইল গ্রাহকদের ওপর সরকার যে কর আরোপ করছে, তার মধ্যে রয়েছে সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট এবং সারচার্জ মিলিয়ে মোট ৩৯ শতাংশ। সঙ্গে রয়েছে সিম কর, যা ৩০০ টাকা।
বাংলালিংকের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স প্রধান তাইমুর রহমান বলেন, ১০০ টাকার রিচার্জে ৫৪ টাকা কর দিতে হয় সরকারকে। এই খাতটিতে কিছুটা ছাড় দেওয়া উচিত।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে কর কমানোর কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব স্পষ্ট করে বলেন, এই খাতে কোনো ভর্তুকি দেওয়া হবে না।
মোবাইল অপারেটরদের মতে, বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করতে হলে এই অতিরিক্ত করের বোঝা কমাতে হবে। বর্তমানে দেশের চারটি মোবাইল অপারেটর প্রায় ১৯ কোটি গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে। অথচ করের ভারে সেবার মান ও খরচ নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষ বাড়ছে।
এর আগে যমুনা সেতু নির্মাণ তহবিলেও এ ধরনের সারচার্জ বসানো হয়েছিল বাস, ট্রেন ও সিনেমার টিকিটে। কিন্তু প্রকল্প শেষে সেই সারচার্জ প্রত্যাহার করা হয়। পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রেও সেই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর