
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে চলছে তালের শাঁস বিক্রির ধুম। তাল মৌসুমী ফল হওয়ায় শহরের বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে, কলেজ গেইট, হাইস্কুল গেইট, আদালত চত্বরের পাশে, লঞ্চ ঘাট, মনু বাবুর ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন কাঁচা তাল বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, নবীনগরে তাল গাছের সঠিক সংখ্যা জানা নেই। তবে ২১ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মধ্যে শ্যামগ্রাম, রসুল্লাবাদ, রতনপুর, লাউর- ফতেহপুর, সাতমোডা, বিটঘর, শিবপুর, বাড়িকান্দি, সলিমগঞ্জ ইউনিয়নে তাল গাছ তুলনামূলক বেশী।
নবীনগর (প.) পাড়ার বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, ‘এখন আগের মত তাল গাছ দেখা যায় না। আগে পাকা তালের রস দিয়ে বিভিন্ন পিঠা বানানো হতো, সে দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না। তার পরিবর্তে এখন কাঁচা তালের শাঁস খাচ্ছি। কিছু দিন পর এটিও আর খেতে পারব কিনা জানি না। কেননা যে ভাবে তালের গাছ কাটা হচ্ছে তাতে বেশী দিন আর শাঁসও খাওয়া যাবে না। আগে এক হালি তাল কিনতে পারতাম ৫০ থেকে ৮০ টাকায়, এখন ১৬০ টাকায় ও মিলছে না।
তাল বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘২৫ বছর ধরে এই ব্যবসা করছি। এ বছর তালের দাম বেশী, তাল পাওয়া যাচ্ছ না, একশত তাল ক্রয় করি ২৭০০ টাকায় যার সাথে আমাদের যাতায়াতের টাকাও গুনতে হয়।
নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকতা জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, ‘তালের শাঁস সুস্বাদু ও পুষ্টিকর, তালে রস ও অনেক উপকারী। তালে রয়েছে ভিটামিন - এ, বি, সি, জিংক, পটাশিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়ামসহ অনেক খনিজ উপাদানসহ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও এ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান। তালের রস দিয়ে গুড়, মিছরি তৈরি হয়। বৈশ্বিক আবহাওয়ার কারণে তাল গাছ দিন দিন কমে যাচ্ছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাল গাছ বাড়ানোর কোন প্রকল্প নাই। তবে বাংলাদেশ সুগারক্রপ ইনষ্টিটিউট তাল নিয়ে কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলের মানুষ তাল গাছের গুরুত্ব না বুঝে গাছ কেটে ফেলে। তাল গাছে বছরে একবার ফল দেয়। সে কারণে তালগাছ কেটে ফল বা কাঠের গাছ রোপন করছে। তালের বীজ থেকে চারা হতে সময় লাগে প্রায় ১ বছরের মত, তাই কোন নার্সারী তালের চারা করতে চায় না। তাল গাছ উঁচু হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ (বজ্রপাত) থেকে মানুষর জীবন রক্ষা করে। বজ্রপাত সরাসরি এ গাছের মাধ্যমে মাটিতে যায়। এ ছাড়া ভূমিক্ষয়, ভূমিধস, ভূগর্ভস্থ পানির মজুদ বৃদ্ধি ও মাটির উর্বরতা রক্ষা করে -পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম