প্রকাশ: রবিবার, ১৮ মে, ২০২৫, ১২:০৯ পিএম

পুরো মৌসুমজুড়েই বারবার হোঁচট খাচ্ছিল সাবেক ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি। একে একে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে তিনটি বড় প্রতিযোগিতায়। সান্ত্বনার আশায় কোচ পেপ গার্দিওলা তাকিয়ে ছিলেন এফএ কাপে, কিন্তু সেখানেও হতাশ করল তার দল। ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে ১-০ গোলে হেরে মৌসুম শেষ করল আরও এক শূন্যতা নিয়ে।
গতকাল (শনিবার) লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় মর্যাদাপূর্ণ এফএ কাপের ফাইনাল। ম্যাচের ফেভারিট ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। তবে শক্তি-সামর্থ্য আর তারকা খেলোয়াড়ে ঠাসা দলটি নিজেদের ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি ঘটাল এই ম্যাচেও। ৭৫ শতাংশ বল দখল ও ২৩ টি শট নিয়েও তারা ব্যর্থ হয়েছে জালের দেখা পেতে। টানা দ্বিতীয়বার এফএ কাপ ফাইনালে হারল তারা।
অন্যদিকে, এফএ কাপে এর আগে দু’বার ফাইনালে উঠলেও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি প্যালেসের। প্রতিবারই তাদের হারিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এবার যেন সেই পুরনো বেদনার প্রতিশোধই নেয়া হলো নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী সিটির বিপক্ষে। মাত্র ৭ টি শটের মধ্যে দুটি লক্ষ্যে রেখেই ইতিহাস গড়ল প্যালেস- ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জিতল কোনো মেজর ট্রফি।
ষোড়শ মিনিটেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন এভরেচি এজে। ড্যানিয়েল মুনোজের দারুণ এক পাস থেকে অসাধারণ ভলিতে জাল কাঁপান এই মিডফিল্ডার। ম্যাচসেরা কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার মুনোজ আরও একটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন, তবে তা কাজে লাগাতে পারেননি সতীর্থ।
বিপরীতে, সিটি শুরু থেকেই আক্রমণের ধারায় প্যালেসকে কোণঠাসা করে রেখেছিল। ষষ্ঠ মিনিটেই প্রথম সুযোগ পান হালান্ড, তবে ডি ব্রুইনার বাড়ানো বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন। এরপর একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পায়নি তারা।
সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ৩৬ মিনিটে, যখন বার্নার্দো সিলভাকে ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দেয় প্যালেস। পেনাল্টি নেওয়া নিয়ে নাটকীয়তা তৈরি হয়—প্রথমে হালান্ড এগিয়ে এলেও পরে বল তুলে দেন মিশরীয় ফরোয়ার্ড ওমর মার্মাউশের হাতে। কিন্তু তার নেওয়া স্পটকিক দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন প্যালেস গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন, যিনি পুরো ম্যাচে ছিলেন দুর্দান্ত।
দ্বিতীয়ার্ধে একবার প্যালেস গোল করেও বসে, তবে ভিএআরে মুনোজের সেই গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপরও সিটি মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালালেও হেন্ডারসনের দেয়াল ভাঙতে পারেনি। যোগ করা ১০ মিনিট সময়েও ফলাফল বদলায়নি।
গার্দিওলার শিষ্যদের চোখে-মুখে ধরা পড়ে চরম হতাশা। আর প্যালেসের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য দিনটি ছিল স্বপ্নের মত। ১২০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তারা ঘরে তুলেছে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম মেজর ট্রফি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম