প্রকাশ: শনিবার, ১০ মে, ২০২৫, ১২:৫৩ পিএম

প্রায় ১৩শ বছর পুরনো প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে পরিচিত কুমিল্লার শালবন বিহার। নিদর্শনটি দৃশ্যমান করতে ইতোমধ্যে খনন কাজ শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। যেটি প্রত্ন পর্যটনে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর দক্ষিণ ধর্মপুরের চারাবাড়ি এলাকায় এই লাল পাহাড়ের মাটির নিচে আরও একটি প্রাচীন স্থাপনার সন্ধান পাওয়া গেছে। যার নাম বালাগাজীর মুড়া। শালবন বিহার থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। বড় ইট দিয়ে তৈরি প্রায় ছয় ফুট চওড়া প্রাচীন একটি দেয়ালের অংশবিশেষের সাথে খননকালে একটি কর্নারে মাটির পাত্রের টুকরো তিন চার ফুট পুরু একাধিক মাটির স্তর সরানোর পরে সন্ধান মেলে এ ধ্বংসাবশেষের। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটিতে উন্মোচিত প্রাচীন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ শালবন বিহার, আনন্দ বিহার, ভোজ বিহার, ইটাখোলা ও রূপবান মুড়ার সমসাময়িক হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজে জড়িত এবং অনুসন্ধান টিম।
কুমিল্লার ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবির জানান, প্রাথমিকভাবে বলা যায় এটি সপ্তম শতাব্দীর পরবর্তী সময়ের কোনো স্থাপনা। ধর্মপুর এলাকার আশপাশে রাজ পরিবার ও জমিদাররা বসবাস করতো। ধর্মপুরের এই প্রত্নস্থান ইতিহাসের জন্য নতুন দিগন্ত হতে পারে। এখন পর্যন্ত শালবন বিহারই অঞ্চলটির সবচেয়ে পুরোনো স্থাপনা। শালবন বিহারের যে ইট, সেটির সঙ্গে এই প্রত্নস্থানে পাওয়া ইটেরও বেশ মিল দেখা যাচ্ছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. নাহিদ সুলতানা জানান, প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনা করে আজ থেকে প্রায় ৮০ বছর আগে বালাগাজীর মুড়াকে সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ঘোষণা করা হয়। যা ১৯৪৫ সালের শিমলা গেজেটে প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ্য, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক দপ্তর, কুমিল্লার একটি প্রত্নতাত্ত্বিক টিম কুমিল্লা জেলার এ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে খনন ও অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করছে।
সূত্র- বাসস
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস