প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ মে, ২০২৫, ৮:৩৪ পিএম

বরগুনার তালতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বনভূমি অবৈধভাবে দখল করে মাছের ঘের তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু বন কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালীদের যোগসাজশে এই কাজটি হচ্ছে।
বন বিভাগ জানায়, উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া খেয়াঘাট থেকে শারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার নদীর তীরে ছইলা, কেওড়া ও অন্যান্য প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছিল, যা একসময় বনভূমি হয়ে গড়ে ওঠে। এই বনভূমি উপকূলীয় এলাকার মানুষদের জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা দিতো।
কিন্তু, সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া এলাকায় নদীর তীরবর্তী বনের শত শত গাছ কেটে দুই একর জমি খনন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই জমিতে মাছের ঘের খনন করছেন। তাদের মধ্যে বাবুল মৃধা ও জাকির মৃধা এই কাজটি করেছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বন বিভাগের লোকজনের সহায়তায় এই অবৈধ কাজ চলেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তরা জানান, এটি তাদের বাড়ির সম্মুখভাগের জমি, যা তারা বন্দোবস্ত নিয়েছেন এবং মাছ চাষের জন্য ঘের তৈরি করছেন। তাদের দাবি, বন বিভাগের লোকজন এখানে এসে দেখে গেছেন।
পরিবেশ কর্মী আরিফ রহমান এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিনিয়ত উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী ধ্বংস হচ্ছে, এবং ভূমিদস্যুরা এই কাজ করছে। প্রশাসনকে আরও সচেতন হতে হবে এবং এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এদিকে, বন বিভাগের তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, ‘এ বিষয়ে আমরা অবগত আছি এবং দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বনের জমি উদ্ধার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালমা বলেছেন, ‘বন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এই ঘটনায় এলাকার বনভূমি রক্ষা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন স্থানীয়রা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম