প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০২৫, ৪:৩৮ পিএম

হাতে আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি, একেবারেই দোরগোড়ায় এসেছে কালি পূজা। মা কালির পূজাকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৫০ বছরের প্রতিষ্ঠানে খানসামা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘পাকেরহাট ঝাপুড়াবট বুড়ির’ পূজা মণ্ডপে চলছে প্রস্তুতি। হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম উৎসব কালী পূজা। পরম যত্নে শেষ মুহুর্তে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। প্রতিমা ঘষামাজা কাজ শেষ, এখন চলছে রং-তুলির আঁচড়ে সৌন্দর্যে মা কালির প্রতিমাকে রাঙিয়ে তোলার কাজ।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খানসামা উপজেলার আঙ্গারপাড়া ও গোয়ালডিহি ইউনিয়নের শেষ সিমান্তে পাকেরহাট আদর্শ গ্রামে ১৩০১ বাংলা সালে স্থাপিত ঐতিহ্য বাহী এই প্রতিষ্ঠানটিতে ২ জন মৃৎশিল্পী অক্লান্ত পরিশ্রম করে গড়ে তুলছেন শিব কালী (বড় কালী), ভদ্রাকালী, বুড়ি ও শীতলা দেবী, মাশান ও শ্মশান কালী প্রতিমা। প্রতিমাগুলো ঘষামাজা কাজ শেষ করে চলছে রং করার কাজ। তাদের সুনিপুণ কারুকাজে যেন প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে প্রতিমাগুলো।
জানা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারো আগামী শনিবার ১০ মে (২৬ শে বৈশাখ) রাতে কালী মায়ের পূজা শুরু হবে। পূজা উপলক্ষে রবিবার (১১ মে) দিনব্যাপী চলবে মেলা। ঢাক, ঢোল আর সানাইএর বাজনার তালে তালে চলবে পাতা পড়া উৎসব। সকাল থেকে চলবে ভক্তবৃন্দের মনোবাঞ্ছনায় পূরণের পূজা। মা কালির কাছে যার মনোবাঞ্ছনায় ইতিপূর্বে পূরণ হয়েছে তাদের প্রতিযোগীতা লাগবে পাঠা, কবুতর ও কলা মন্দিরে মা কালির পয়ের নিচে দিতে। পাঠা বলিদান শেষে সন্ধার পরে হবে পাঠার মাথা ও কবুতর বিক্রি ডাক।
মা কালির পূজা উপলক্ষ্যে আয়োজিত মেল চলবে এক সপ্তাহ ধরে। আগামী রবিবার (১৮ মে) মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে। এদিনেও চলবে পূর্বের দিনের মতো আনন্দ-উৎসব। মেলায় থাকবে পূজারী দোকান, বাহারি রঙের তৈজসপত্র, বিভিন্ন খাবারের দোকানসহ আকর্ষণীয় সব জিনিস। মেলায় পছন্দের তৈজসপত্র ও অনেক আকর্ষণীয় জিনিস পাওয়া যায় বলে এ মেলার অনেক সুখ্যাতি রয়েছে। এই মেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ভিড় জমান হাজারো দর্শনার্থী ও ভক্তবৃন্দ।
প্রতিমা তৈরির মৃৎশিল্পী কমল চন্দ্র পাল বলেন, ‘প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ। এখন রং-তুলির আঁচড়ে রাঙিয়ে তোলার কাজ চলছে। সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে দিতে হবে। তবে যে দামে (১০ হাজার টাকা) প্রতিমা তৈরির কাজ নেওয়া হয়েছে। প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত মাটির দাম বেশি হওয়ায় ও রঙসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাচ্ছিনা।’
ঐতিহ্যবাহী পাকেরহাট ঝাপুড়াবট দুর্গা, কালী মন্ডপ ও হরিবাসর কমিটির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল রায় জানান, এই ঐতিহ্য বাহী প্রতিষ্ঠানটি বাব দাদার আমলের গড়া। প্রায় ১৫০ বছর হচ্ছে। আমরা ছোট থেকে দেখে আসছি এখানে কালী মায়ের প্রতিমা তৈরিতে জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে পূজা হয় এবং পূজা উপলক্ষে হাঁটি/মেলা হয়। এখন তারা আমাদের কাছে দায়িত্ব দিয়েছে। আমরাও জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে ও শান্তিপূর্ণ ভাবে পূজা করে আসছি। এবারো সুন্দর মুহুর্তে ও সুশৃঙ্খল ভাবে পূজা করার লক্ষ্যে কালী মায়ের প্রতিমা তৈরি সম্পন্ন হচ্ছে। এসময় তিনি মেলায় সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম