প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৫, ৮:৩৪ পিএম

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের সাথে আসা স্বজনেরা। হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে মনঃক্ষুণ্ন তারা। যা প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে হাসপাতালের মানহীন খাবার, দুর্গন্ধময় শৌচাগার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অপ্রতুল স্বাস্থ্য সেবাকে।
হাসপাতাল ও রোগীদের সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে প্রায় এক বছর ধরে সিজার অপারেশন বন্ধ রয়েছে। সামান্য কাটাছেঁড়ার জন্য রোগীকে টাঙ্গাইল শহরে পাঠানো হয়। নানা অব্যবস্থাপনা, জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাসপাতালের রোগীরা। এছাড়াও ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালে একটি জেনারেটর থাকলেও তা চালু করা হয় না ঠিক মতো। বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতাল ডুবে যায় অন্ধকারে। চার্জিং বাল্বের ব্যবস্থা থাকলেও সীমাবদ্ধ তা কয়েকটি বাতিতে।
সরেজমিনে দেখা গিয়েছে, দোতলায় উঠার সিঁড়িতে রয়েছে বেশ ময়লা। মেঝেতেও রয়েছে ময়লার দাগ। দেয়ালের কোথাও কোথাও লেগে রয়েছে কফ, থুতু ও পানের পিকের দাগ। রোগীদের শৌচাগার দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় নোংরা হয়ে আছে। এছাড়া বেসিনের অবস্থাও নাজুক। এসব নিয়ে রোগী ও স্বজনরা নিয়মিত অভিযোগ করলেও অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না।
হাসপাতালের খাবারের মান ভালো নয় অভিযোগে নিকরাইল থেকে আসা রোগী হেনা বেগম বলেন, আমরা সব সময় বাইরে থেকে কিংবা বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসি। পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। স্যালাইন ছাড়া আর কোনো ওষুধ দেয়নি কর্তৃপক্ষ।
রোগীর বাবা আফাজ উদ্দিন বলেন, হাসপাতালের টয়লেটের অবস্থা খুবই বাজে। কোনো সময়ই পরিষ্কার করা হয় না। যা ব্যবহারের একদমই অপযোগী। হাসপাতালের লোকজন কোনো কাজ করে না। আমরা খুব কষ্টে হাসপাতালে অবস্থান করি, দেখার কেউ নেই।
শহিদুল ইসলাম নামে একজন বলেন, আমার স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। ব্যথার ট্যাবলেট ও স্যালাইন ছাড়া আর কোনো ওষুধ দেয়নি। বাইরে থেকে ওষুধ কিনে এনেছি। হাসপাতালে কোনো অপারেশন হয় না। টয়লেটে গেলে রোগী আরোও অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুস সোবাহান বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধের সরবরাহ নেই। টয়লেট পরিষ্কার করার মতো লোক নেই। বাইরে থেকে লোক ডেকে এনে কাজ করাতে করতে হয়। এছাড়া এক বছর ধরে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক না থাকায় সিজার হচ্ছে না। এসব বিষয় সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। তবুও আমরা যথাযথ সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি