প্রকাশ: সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৫, ২:৩২ পিএম আপডেট: ২১.০৪.২০২৫ ২:৪৩ PM

ক্যাথলিক চার্চের ইতিহাসে প্রথম লাতিন আমেরিকান পোপ, পোপ ফ্রান্সিস আজ সোমবার (২১ এপ্রিল) সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭ টা ৩৫ মিনিটে তিনি রোমে মারা যান।
কার্ডিনাল কেভিন ফেরেল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিশপ ফ্রান্সিস ঈশ্বরের কাছে ফিরে গেছেন। তার জীবন ছিল প্রভু ও চার্চের সেবায় উৎসর্গিত।’
পোপ ফ্রান্সিস দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসযন্ত্রের জটিলতায় ভুগছিলেন। তরুণ বয়সেই তার একটি ফুসফুস আংশিক অপসারণ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে রোমের গেমেলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি ৩৮ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
২০১৩ সালের ১৩ মার্চ, আর্জেন্টিনার হোর্হে মারিও বারগোলিও পোপ হিসেবে নির্বাচিত হন। বৃষ্টিভেজা সেই রাতে তিনি জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘বুয়োনাসেরা’-শুভ সন্ধ্যা। তার সেই নম্র অভিবাদনেই ছিল এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত।
গরিবদের পাশে দাঁড়ানো, শরণার্থীদের আলিঙ্গন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ, এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের প্রতি সহানুভূতি-এই সবই তাকে বিশ্বজুড়ে ভিন্ন এক পোপ হিসেবে গড়ে তোলে।
তবে এসব কারণে রক্ষণশীলদের মাঝে কিছুটা বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ২০১৮ সালে চিলির এক পুরোহিতের যৌন নিপীড়নের ঘটনার পর তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় পুরো বিশ্ব যখন লকডাউনে, তখন ফাঁকা সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আমরা সবাই একই নৌকায় আছি-দুর্বল ও বিভ্রান্ত। আমাদের একে অপরকে সহানুভূতি দিয়ে পাশে থাকতে হবে।
পোপ ফ্রান্সিস তার সরলতা, সহানুভূতি এবং গঠনমূলক চিন্তাভাবনার জন্য বিশ্বজুড়ে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। তার মৃত্যুতে ক্যাথলিক চার্চসহ বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম