গুম কমিশনের কাজ হল একটা ইমোশানাল রোলার-কোস্টার। একবার একজন বন্দি বলেছিলেন যে গোপন বন্দিশালায় দীর্ঘ সময় থাকার কারণে ওনার সাথে আরও চারজন বন্দির ভাল পরিচয় হয়ে যায়। একদিন রাতে ভদ্রলোক দেখেন তার চার বন্ধুকে সেই বন্দিশালা থেকে একত্রে বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে - এদের মাঝে একজন ছিল যথেষ্ট আন্ডারএজ।
কয়েক বছর পর তিনি নিজে ছাড়া পাওয়ার পর চারজনের একজনের বাসা ট্রেস করতে সক্ষম হন এবং জানতে পারেন যে তার বন্ধু গুম হওয়ার পর আর কখনও ফেরেনি। যদিও অন্য তিনজনকে এখনও ট্রেস করা যায়নি, বাহিনীগুলোর মোডাস অপারেন্ডি যতটুক বুঝি--যেহেতু একত্রে বের করেছিল--বেস্ট গেস হল সেই রাতে সবাইকেই লাইকলি এলিমিনেট করা হয়।
আন্ডার এজ ভিক্টিম বলে কিনা, নাকি সারভাইভরের গলার গভীর বিষণ্ণতা, কেন জানিনা তবে ইন্টার্ভিউটা শেষ করে অনেকদিন পরে একাকী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলাম। সব কাজ বাদ দিয়ে অনেকক্ষণ কেঁদেছিলাম। Sometimes somethings just become too much to take.
তবে বিপরীত ধর্মী ঘটনাও ঘটে! একজন বন্দি বলেছিলেন বন্দি থাকা অবস্থায় তিনি দোয়া করেছিলেন যাতে তার ক্যাপ্টর অফিসারের সাথে জীবনে আবার দেখা হয়। যেদিন সেই অফিসারকে খুঁজে এনে ভদ্রলোকের মুখোমুখি করেছিলাম আইডেন্টিফাই করার উদ্দেশ্যে, সেদিন দোয়াটার কথা স্মরণ করে দিয়েছিলাম যাতে তিনি অফিসার সাহেবকে দোয়া কবুলের বিষয়টা জানাতে পারেন। I felt very good that day. বললাম না - পুরো ব্যাপারটাই একটা ইমোশানাল রোলার-কোস্টার!
লেখক: গুম তদন্ত কমিশনের সদস্য ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
(লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর