প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৫, ৫:৪৬ পিএম আপডেট: ১৫.০৪.২০২৫ ৫:৫৬ PM

বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খানের ওপর হামলার ঘটনায় শরিফুল ইসলামকেই মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে একাধিক সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেছে তদন্ত কমিটি। এমনকি ফরেন্সিক রিপোর্টও শরিফুলের বিরুদ্ধেই গিয়েছে বলে জানা যায়।
এরপরেও আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন শরিফুলের আইনজীবী। জবাবে মুম্বাই পুলিশ একাধিক সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণ পেশ করে অভিযুক্তের জামিনের আবেদন নাকচ করার আবেদন করে। সেই সাথে পেশ করে হাজার পাতার চার্জশিটও।
তবে হঠাৎ করেই দেখা যায় পটপরিবর্তন। অভিনেতার আবাসন থেকে পাওয়া আঙুলের ছাপের সাথে মিলছে না শরিফুলের আঙুলের ছাপ!
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অভিযুক্তের আঙুলের ছাপের ২০টি নমুনা সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যুরোতে পাঠানো হয়েছিল। যার মধ্যে ১৯টি নমুনা অভিযুক্তের সঙ্গে মেলেনি। খবর প্রকাশ্যে আসতেই নতুন গুঞ্জনের জন্ম নেয়। তাহলে কি শরিফুল আদৌ সাইফকাণ্ডের সাথে যুক্ত?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিনেতার বাথরুমের হাতল, আলমারির হাতল, দরজার হাতলসহ একাধিক জায়গা থেকে আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়েছে। যেখানে ২০টি আঙুলের ছাপের মধ্যে ১৯টি-ই নাকি মেলেনি শরিফুলের আঙুলের ছাপের সাথে! কেবল আটতলার ঘর থেকে পাওয়া আঙুলের ছাপের সাথে মিলেছে অভিযুক্তের আঙুলের ছাপ।
বাকি জায়গার হাতলে অভিযুক্তের পাশাপাশি অন্যরাও হাত রেখেছিল বলে দাবি পুলিশের। অভিযুক্তের আঙুলের ছাপের উপরেই পড়েছে সেই ছাপগুলো। ফলে, মুছে গেছে শরিফুলের আঙুলের ছাপ। এই ধরনের অমিল অনেক তদন্তেই ঘটে থাকে। তবে আটতলার ঘর থেকে পাওয়া আঙুলের ছাপই প্রমাণ করে দিচ্ছে, আততায়ী অভিনেতার বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।
মুম্বাই পুলিশের চার্জশিটে আরো দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে আগত শরিফুল তার পরিবারের কাছে অবৈধভাবে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন।
চার্জশিটে পুলিশ এ কথা উল্লেখ করে জানিয়েছে, শরিফুল তার সহকারী অমিত পাণ্ড্যর মাধ্যমে আবদুল্লাহ আলিমের কাছে টাকা পাঠাতেন। আলিম তার বোনের স্বামী ছিলেন। এভাবে অনেকদিন ধরে বেঙ্গালুরুর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতীয় মুদ্রা দেশ থেকে বাইরে পাঠানো হচ্ছিল।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি