
মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সিবিএসের ওপর আবারও চটেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেন ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় প্রতিষ্ঠানটির ওপর ক্ষেপেছেন তিনি। সিবিএসের সংবাদ সম্প্রচার ম্যাগাজিন ‘৬০ মিনিটসে’ সম্প্রচারিত ওই প্রতিবেদনের জন্য গণমাধ্যমটিকে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।
রবিবার ( ১৩ এপ্রিল) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে দুটি প্রতিবেদন সম্প্রচার করে ৬০ মিনিটস।
প্রতিবেদনটি সম্প্রচারের পরপরই নিজের সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ওই প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করে একটি পোস্ট দেন ট্রাম্প। প্রতিবেদনে তাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, প্রায় প্রতি সপ্তাহেই ট্রাম্প নামটি অবমাননাকর ও অসম্মানজনকভাবে উপস্থাপন করছে এই ৬০ মিনিটস। এবার তারা সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এ কাজের জন্য তাদের কড়া মাশুল গুনতে হবে।
এ ধরনের ‘বেআইনি ও অবৈধ’ কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের কোঠর শাস্তি ও জরিমানার আওতায় আনতে ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) চেয়ারম্যান ব্রেনডান কারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ৬০ মিনিটস আর কোনো সংবাদ প্রচারের শো নেই। এটি এখন রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ‘লেবাসধারী’ সংবাদ মাধ্যম হয়ে গিয়েছে। আগে যা করেছে কিংবা এখন যা করছে সবকিছুর জন্যই তাদের জবাবদিহিতা করতে হবে।
তবে ট্রাম্পের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি সিসিএস নেটওয়ার্ক।
এর আগে গত বছরের ৩১ অক্টোবর সিবিএসের বিরুদ্ধে ১০ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেছিলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নির্বাচনের প্রচারের সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা হ্যারিসের বক্তব্য সম্পাদনা করে সম্প্রচার করায় এই মামলা করেছিলেন তিনি।
এই মামলায় সমঝোতায় আসতে ট্রাম্পের আইনজীবী ও নেটওয়ার্কটির কর্মীদের মধ্যে আলোচনার কানাঘুষা চলছে।
এসবের মধ্যেই আবার চটে গেলেন ট্রাম্প ম্যাগাজিন ‘৬০ মিনিটস’ এর উপর।
মামলার সুরাহা না হলেও দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিনিয়তই ট্রাম্প প্রশাসন সম্পর্কে নানা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে ৬০ মিনিটস নামে প্রোগ্রামটিতে। বিশেষত সাংবাদিক স্কট পেল্লি একের পর এক সংবাদ প্রকাশ করেই যাচ্ছেন।
এদিকে, গ্রিনল্যান্ডে গিয়ে রবিবার ( ১২ এপ্রিল ) আরেকটি প্রতিবেদন সম্প্রচার করেন সাংবাদিক জন ওরথহেইম। যেখানে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখল করা সম্পর্কে দ্বীপটির কয়েকজনের বক্তব্য প্রকাশ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।
সূত্র: এপি
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি