প্রকাশ: রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:০৪ পিএম আপডেট: ০৬.০৪.২০২৫ ৭:১৮ PM

মানব পাচার সংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহি করার জন্য শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সজাগ ও সক্রিয় রয়েছে বলে জানান তিনি।
রবিবার (৬ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের সুরমা হলে মানব পাচার সংক্রান্ত বিমসটেক সাব-গ্রুপের তৃতীয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক ও আইসিটি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং মানব পাচার সংক্রান্ত বিমসটেক সাব-গ্রুপের তৃতীয় সভার চেয়ারম্যান খন্দকার মোঃ মাহাবুবুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিমসটেক সেক্রেটারিয়েট ঢাকার পরিচালক প্রশান্ত চান্দ্রান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের প্রশাসন ও অর্থ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে মন্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পাচারের বিপদ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করার জন্য বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও মানব পাচার রোধে বাংলাদেশ তার প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছে এবং এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ মানব পাচার মোকাবেলায় একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। যার মধ্যে ভুক্তভোগীদের শনাক্তকরণ, চাহিদা মূল্যায়ন এবং উপযুক্ত পরিষেবা প্রদানসহ একটি জাতীয় রেফারেল ব্যবস্থা (ওয়েব প্ল্যাটফর্মে হোস্ট করা) রয়েছে। এছাড়া, মানব পাচারকারীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় কৌশলে সচেতনতামূলক প্রচারণাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং বিমসটেকসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে পারস্পরিক আইনি সহায়তা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পাচারকারীরা সরকারের উদ্যোগগুলো এড়িয়ে নতুন কৌশল গ্রহণ করছে। প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এই অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একটি সম্মিলিত এবং কৌশলগত কর্মপদ্ধতি প্রয়োজন। বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য ও সেরা অনুশীলন বিনিময়ের মাধ্যমে একটি প্ল্যাটফর্ম এই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বিমসটেকের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। এছাড়াও, সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে মানবপাচার রোধে সহযোগিতা বৃদ্ধি ও সম্পর্ক গভীর করার আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, সভায় বিমসটেকভুক্ত সাত সদস্য দেশের (বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভূটান) মানবপাচার সংক্রান্ত সাব-গ্রুপের সংশ্লিষ্ট সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি