
আইএনজিও ফোরাম অন আই হেলথ ইন বাংলাদেশ এবং জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইওএইচ) যৌথ উদ্যোগে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। ‘লাভ ইয়োর আইজ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার সিআইআরডিএপিতে এ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
র্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত, এমপি। পরে ড. দুর্গা পি. পাওডিয়াল কনফারেন্স হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি প্রতিনিধি, চক্ষু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এম. এ. মুহিত বলেন, ‘কাজ করা ও শেখা, নিরাপদে চলাফেরা এবং সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য ভালো দৃষ্টিশক্তি থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব দৃষ্টি দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সময়মতো চোখের যত্ন ও চিকিৎসা পেলে দৃষ্টিজনিত অনেক সমস্যা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীরা একসঙ্গে কাজ করে সচেতনতা বাড়াতে এবং সবার কাছে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চোখের চিকিৎসা পৌঁছে দিতে পারলে আরও অনেক মানুষ সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারবেন।’
আলোচনা সভার শুরুতে আইএনজিও ফোরামের চেয়ার ও সাইটসেভার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও দেশে দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের নেশনওয়াইড ব্লাইন্ডনেস সার্ভে অনুযায়ী, ৩০ বছর ও তার বেশি বয়সী ১৯ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যায় ভুগছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিশুদের ক্ষেত্রে এটি পড়াশোনা ও সামাজিক বিকাশে আর প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এটি আত্মনির্ভরশীল হওয়া, কাজের সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক সুযোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য বাংলাদেশে পিছিয়ে পড়া মানুষদের কাছে মানসম্মত সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সরকার ও এনজিওগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় ও সহযোগিতার প্রয়োজন।’
ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিশা মাহজাবিন বলেন, ‘চশমা হয়তো খুব সাধারণ একটি সমাধান, কিন্তু এর প্রভাব মানুষকে তার জীবনে অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। কারণ, এটি পড়াশোনা, জীবিকা অর্জন, নিরাপদে চলাফেরা এবং নিজের কাজ নিজে করার সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।’
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. মহসীন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগের সঙ্গে চোখের স্বাস্থ্যসেবাকে যুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির। তিনি বাংলাদেশে চোখের স্বাস্থ্যসেবা আরও এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইএপিবির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কান্ট্রি চেয়ার ও অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ, ওএসবির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মো. জিন্নু রেইন (নিউটন) এবং ওএসবির প্রেসিডেন্ট ডা. মো. তৌহিদুর রহমান। আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের প্রোগ্রাম হেড ডা. আফসানা হাবিব শিউলি।
প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত হয়। চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং সহজলভ্য ও মানসম্মত চোখের চিকিৎসাকে গুরুত্ব দেওয়াই দিবসটির মূল লক্ষ্য। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের (আইএপিবি) নেতৃত্বে এ বছর ৮ অক্টোবর বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ধন্যবাদ বক্তব্য দেন আইএনজিও ফোরাম অন আই হেলথের কো-চেয়ার এবং দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার এ কে এম বদরুল হক। তিনি বাংলাদেশে সবার জন্য চোখের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার ও বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আইএনজিও ফোরাম অন আই হেলথ বাংলাদেশে চক্ষু স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম। প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টিশক্তির সমস্যা কমানো এবং সবার জন্য মানসম্মত চক্ষু সেবা সহজলভ্য করতে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠন, উন্নয়ন সহযোগী ও জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করে ফোরামটি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি