
ঈদের আনন্দ বহুগণ বাড়িয়ে দেয় নতুন পোশাক। সঙ্গে চলে সারাদিন খাওয়া-দাওয়ার ধুম। পুরো মাস রোজা রাখার পর ঈদ উৎসবে অনেকেই অনিয়ন্ত্রিতভাবে খাওয়া-দাওয়া করেন। একবারে বেশি খেলে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
অনেকের আবার হজমের সমস্যাও দেখা দেয়। তাই আমাদের সবার উচিত খাবারের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া। কারণ গরমে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত বা ভারী খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং এতে শরীরের ওপর চাপ পড়তে পারে।
সময় ও পুষ্টি বিবেচনায় এই সময় ঈদের খাবার কেমন হওয়া উচিত তা জেনে রাখলে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো যায়।
সকালের হালকা খাবারঃ
ঈদের দিনের শুরুটা হালকা ও স্বাস্থ্যকর হওয়া উচিত। ফল, স্মুদি, ফলের সালাদ বা দই খুব ভালো বিকল্প হতে পারে। এগুলো পেট ঠান্ডা রাখে এবং হজমের সহায়ক। যদি পায়েস বা ফিরনি খেতে ইচ্ছে হয়, তবে তাদের বদলে দই বা দই দিয়ে লাচ্ছি খাওয়া যায়।
বরিশাল সিএমএইচের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট লে. কর্নেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, রমজান মাসে স্বাভাবিক কারণে দৈনন্দিন খাদ্য গ্রহণের সময়সূচির পরিবর্তন ঘটে। খাদ্যের মেন্যুও থাকে একটু অন্যরকম। ঈদের সকাল থেকেই শুরু হবে খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন। । অতিরিক্ত ঝাল, তৈলাক্ত এবং মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। এমনটি না করলে সারাদিন পেটে একটা অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন মৌসুমি ফল এবং শাকসবজি। এসব খাবার আপনার অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করবে। যার ফলে বেশি খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমবে। গ্রিলড মাংস, সাবুদানা খিচুড়ি, সবজি বা ভাত খেতে হবে পরিমাণমত।
হাইড্রেশন- পানি ও শরবতঃ
গরমে শরীরের হাইড্রেশন ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সারা দিনে অন্তত দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করুন। ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ফলমূলের জুস শরীরকে ঠান্ডা রাখবে। এছাড়া ও চিয়া সিড বা তোকমা দানা ভেজানো পানি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটিও খেতে পারেন ইফতারে।
তবে একবারে অনেকটা পানি কিংবা পানীয় খাবেন না। ভরপেট পানি খেলে অস্বস্তি হতে পারে। রাতের বিভিন্ন সময়ে পানি কিংবা পানীয় খান। খাবার এবং পানি বা পানীয় গ্রহণের মাঝখানে ১৫–২০ মিনিটের ব্যবধান রাখুন।
শিশুদের খাবার ও নিরাপত্তাঃ
ঈদে শিশুরা বাইরে নানা ধরনের খাবার খেতে চায়। গরমে রাসায়নিকযুক্ত বা অস্বাস্থ্যকর খাবার তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। খাবারে ক্ষতিকর রং, লবণ, ঘি, বাটার, পাম অয়েল ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, এগুলো বাচ্চাদের স্বাভাবিক হজম, বিপাক ক্রিয়াকে নষ্ট করে। তাদের ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার এবং শরীরের প্রোটিনের চাহিদা অনুযায়ী মাংস খেতে দিন। এর সঙ্গে বেশি করে আঁশযুক্ত শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।
ঈদের আনন্দে স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিন। ঈদ মানে শুধু খাওয়া-দাওয়া নয়, এটি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার সময়ও। তবে, শরীরের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। তাই সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাস রাখুন। এতে আপনি ঈদের দিনটি আরও উপভোগ ও সুস্থভাবে কাটাতে পারবেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর