
ছোট মেয়ে রেনেসার আবদার মেটাতে আনিছুর রহমান বগুড়া সদরে এসেছে ঈদের মার্কেট করতে। রিক্সাযোগে আসতেই চোখে পড়ে বগুড়ার বিশালবহুল সপিং সেন্টার রানা প্লাজা। মেয়েকে নিয়ে চলন্ত সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠেই সামনে পড়ে কয়েকটি নামী-দামি দোকান। মেয়ের পছন্দের দিকে লক্ষ্য করে একটি বেবি ফ্রক পছন্দ হয়। দোকানদার ফ্রকটির দাম ২৮শ’ টাকা দাবী করায় হতভম্ব হয়ে পড়েন আনিছুর। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও সাধ্য না থাকায় নানা ক্রটির কথায় মেয়েকে ভুলিয়ে নেমে আসেন ওই সপিংমল থেকে।
কথা হয় আরেক ক্রেতা শাহনাজ পারভীনের সাথে। তার স্বামী একজন এনজিও কর্মী। তিনিও ছোট দু’টো ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন এ সপিং মলে। পছন্দের সেরা পোশাকগুলোর সাথে বাজেটে মেলাতে না পেরে তিনিও মনের অনেক কষ্ট ছাপিয়ে নেমে পড়েন। তাহলে কোথায় পোশাক কিনবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দেখি অন্য কোথাও... পোশাক কেনা যায় কিনা।
শুধু আনিছুর রহমান, শাহনাজ পারভীনই নয়, এমন অসংখ্য নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সপিংমল বা বিলাপ বহুল পোশাক বিপণীগুলো যেন স্বপ্নের মতো!
তাইতো তারা ছুটে চলেছে বগুড়ার হকার্স মার্কেট, আবার কখনও ফুটপাতেই মিলিয়ে নিচ্ছেন সাধ্যের পছন্দের পোশাক। নিম্ন আয়ের এই বাবা মেয়ে এবং স্ত্রী রেহেনা নিয়ে চলে আসেন তাদের বাজেটের বগুড়া হকার্স মার্কেট। এখান থেকে তিনি ছয়শ’ টাকা দিয়ে জামা এবং চারশ’ টাকার সেন্ডেল কিনে মেয়েকে শান্ত করেন। মেয়েও জামা পেয়ে ভুলে যায় শহরের অভিজাত মার্কেটগুলোর দামি জামাকে।
ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বগুড়ার সদরের মতো বিভিন্ন উপজেলা সদরের মার্কেটগুলোর জমে উঠেছে কেনাকাটা। উচ্চবিত্তরা নগরীর নামিদামি শপিংমল থেকে কেনাকাটা করলেও স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা শহরের হকার্স মার্কেট ও সড়কের পাশের ফুটপাতের বাজারগুলো। এখানে শিশুদের পোশাকসহ বড়দের শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি-পাজামা, সালোয়ার-কামিজ, জুতা-মোজা, স্যান্ডেল, ব্যাগ, বেল্টসহ নানা ধরনের পণ্য পাওয়া যায়।
এই মার্কেটে এখন পর্যন্ত শিশুদের পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। শিশুদের জন্য মাত্র ১৫০ থেকে হাজার টাকার মধ্যে ভালো মানের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। নারীদের সালোয়ার কামিজের জন্য গুনতে হচ্ছে ৬শ’-২ হাজার টাকা। এছাড়াও ছেলেদের শার্ট-প্যান্ট ও পাঞ্জাবি সবই হাজার টাকার মধ্যে কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা।
হকার্স মার্কেট থেকে ৬০০ টাকায় বৌ এর জন্য থ্রিপিস কিনেছেন রিকশাচালক আমজাদ হোসেন। আরও কিনলেন স্যান্ডেল ২৫০ টাকায়। তিনি বলেন, আমাদের মতো নিম্নবিত্ত আর দিনমজুরদের জন্য হকার্স মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানগুলোই এখন ভরসার জায়গা। এ দোকানগুলোর বাইরে কেনাকাটা করার সামর্থ্য আমার নেই।
হকার্স মার্কেটগুলোতেও ভারত, পাকিস্তান, চায়নার টিস্যু, জর্জেট, চিকেনের জামার সাথে সাথে ওড়না ম্যাচিং করে পাওয়া যাচ্ছে। দোকানের বিক্রয়কর্মী আরমান জানান, অনেকে আসেন যারা একটু ডিজাইন করে জামা বানাতে চান তারা এই কাজ করা কাপড়গুলো নিয়ে দর্জিকে দিয়ে স্টাইলিস্ট পোশাক বানিয়ে ঈদে অনন্যা হয়ে উঠেন। এই জন্যই এই মার্কেটে সব ধরনের ক্রেতাদের এত ভিড়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর