প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৫৪ পিএম

‘বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা’—বুধবার রাতে মায়ের সঙ্গে ফোনে এটাই ছিল সেনাসদস্য তিতাস শেখের (২৮) শেষ কথা। পরদিন বৃহস্পতিবার টেকনাফে যৌথ বাহিনীর অভিযানে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন তিনি। ছেলের মৃত্যুর খবরে শোকে ভেঙে পড়েছেন মা রেখা বেগম। স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। আর ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক বাবা আফজাল শেখের চোখেও অশ্রু। শুক্রবার সকালে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে তিতাসের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকাবহ পরিবেশ।
তিতাস সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। ২০১৭ সালে সৈনিক পদে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। চার বছর আগে পাশের গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের কোনো সন্তান নেই। আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তিতাসের। স্বামীকে হারিয়ে সুমাইয়া বারবার বিলাপ করছেন। অন্যদিকে মা রেখা বেগম ছেলের সঙ্গে শেষ কথার স্মৃতি মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিতাস ছিলেন সবার বড়। তাঁর ছোট ভাই আকরাম হোসেনও সেনাবাহিনীতে কর্মরত।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফে মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছিল। এ সময় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে বুকের বাঁ পাশে আহত হন তিতাস। তাঁকে প্রথমে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন জানান, আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারে করে শুক্রবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে তিতাসের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার শেষে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে দাফন করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি