বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্প       ● অষ্টগ্রামে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন      ● শরীয়তপুরের পদ্মায় নৌ পুলিশের অভিযান      ● অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দেড় কোটি টাকার লুট      ● কানসাট বাজারে আম পাওয়া যাচ্ছে এখনো      ● ডেঙ্গুতে মা ও অনাগত সন্তানের মৃত্যু      ● নিজ অর্থায়নে ব্যস্ততম সড়ক সংস্কার      ● টুপটুপে এক পরিবারের নিহত ৪ জনের মরদেহ হস্তান্তর      ● পাঁচ শতাধিক ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাবার দিলো যুবদল      ● আটোয়ারীতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উদযাপন      ● স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৪৬      ● উৎসবমুখর পরিবেশে নতুনকুঁড়ির খেলোয়াড় বাছাই      
অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্প
প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৪ পিএম

যে কোনো অনুষ্ঠানেই বাঙালি নারীর প্রথম পছন্দ শাড়ি। আর সেটা যদি হয় টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি, তবে তো কথাই নেই। শাড়ির প্রতি নারীদের এমন টান উপলব্ধি করেই টাঙ্গাইল জেলার সদর, কালিহাতী ও দেলদুয়ার উপজেলায় তাঁতের শাড়ি উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু বর্তমানে বেশিরভাগ তাঁতই বন্ধ। মন্দাভাব কাটাতে অনেকে মেশিন বিক্রি করে দিয়েছেন। শ্রমের বিপরীতে মজুরি তুলনামূলক কম থাকায় পেশা বদলেছেন অনেক শ্রমিক। এর ফলে দিন দিন কমছে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকের সংখ্যা। এ ছাড়া কাঁচামালের মূল্য বেড়েছে। সেই সঙ্গে পাওয়ার লুমের অসম প্রতিযোগিতা। সব মিলিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরে এ ব্যবসায় মন্দাভাব যাচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় দিন দিন তাঁতের সংখ্যা কমছে। যেগুলো তাঁত রয়েছে, সেগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। তার মধ্যে বর্তমানে সুতার দাম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাওয়ার লুমের কারণে হ্যান্ডলুমে তৈরি শাড়ি কম চলে। হ্যান্ডলুমের শাড়ির দামও কিছুটা বেশি।

তাঁতশ্রমিক শংকর রায় বলেন, আমি বর্তমানে জামদানি শাড়ি তৈরি করছি। এটি তৈরি করতে প্রায় সপ্তাহখানেক সময় লাগে। এতে মজুরি পাওয়া যায় আড়াই হাজার টাকা। ভাবছি, এ পেশায় না থেকে অন্য কিছু করব। এভাবে জীবন চালানো কঠিন।

পাথরাইল এলাকার আরেক তাঁতশ্রমিক কবির হোসেন জানান, পাওয়ার লুমের কারণে বর্তমানে তাঁতের শাড়িতে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। পাওয়ার লুমে দিনে ৮-১০ পিস শাড়ি তৈরি করা যায়। আর একটি নিখুঁত তাঁতের শাড়ি তৈরি করতে অন্তত দুই দিন সময় লাগে। প্রতিপিস শাড়ি তৈরি করলে মজুরি পাওয়া যায় ৭০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে কি সংসার চলে? তার চেয়ে অটোরিকশা চালানো ভালো। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন আয় হয় ৭-৮ শত টাকা।

ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবারও টাঙ্গাইলের শাড়িতে এসেছে বাহারি ডিজাইন আর নতুনত্ব। মুসলিম ও সনাতনীদের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ক্রেতারা শাড়ি কিনতে ভিড় করেন টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লি ও জেলা শহরের শোরুমগুলোতে। এ সময় নিজের জন্য এবং প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার জন্য পছন্দের শাড়ি কেনেন ক্রেতারা।

শহরের আদি টাঙ্গাইলের বাসিন্দা গৃহিণী সায়মা রহমান বলেন, ‘যে কোনো দিবসে তাঁতের শাড়ি আমার প্রথম পছন্দ। এতে নিখুঁত কারুকাজ থাকে। পরে অনেক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।’

টাঙ্গাইল জেলা শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক বলেন, ‘আগের তুলনায় এ অঞ্চলের তাঁতের সংখ্যা কমেছে। এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার তাঁত ছিল। সেই সংখ্যা কমে বর্তমানে মাত্র সাড়ে চারশোর মতো তাঁত টিকে রয়েছে। নতুন প্রজন্মকে এ শিল্পে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তা না হলে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। আমাদের এ শিল্পের প্রতি সরকারের উদাসীনতা রয়েছে। শ্রমিক হারিয়ে যাচ্ছে। দেশের সব কিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু আমাদের কাপড়ের দাম কমেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ঋণ দিয়ে এ শিল্পকে ওঠানো সম্ভব নয়। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে স্থলপথে টাঙ্গাইল শাড়ির রপ্তানি ঠিক রাখতে হবে। কয়েক দিনের মধ্যেই সুতার দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ ভাগ। এ সমস্যারও সমাধান জরুরি।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) টাঙ্গাইলের শাড়িকে জিআই পণ্য হিসেবে ঘোষণা করে।

২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর ভারতের দিল্লিতে ইউনেস্কো ২০০৩ কনভেনশনের চলমান ২০তম আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদের সভায় বাংলাদেশের ‘টাঙ্গাইল শাড়ি বুনন শিল্প’কে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।






স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : ড. এম এ কাইয়ুম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close