প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ পিএম

সংসারে নতুন অতিথি আসার অপেক্ষা। অনাগত সন্তানকে ঘিরে কত আয়োজন, কত স্বপ্ন। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই মা হওয়ার কথা ছিল আনিসা দাশ মলির। কিন্তু সেই আনন্দের মুহূর্ত আর এলো না। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অনাগত সন্তানসহ মারা গেলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার খিলপাড়া গ্রামে। মাতৃহারা হয়েছে ছয় মাসের এক শিশুকন্যা। স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা স্বামী রাজীব সরকার।
মলি আনোয়ারা উপজেলার ৭ নম্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খিলপাড়া গ্রামের মেয়ে। স্বামী ও ছয় মাসের মেয়েকে নিয়ে তাঁর ছোট্ট সংসার। দ্বিতীয় সন্তানকে ঘিরে পরিবারে ছিল নতুন করে আনন্দের প্রস্তুতি। আগামী মাসে সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু হঠাৎ জ্বর সেই সুখের সংসারে নিয়ে আসে শোকের বার্তা। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান মলি। তাঁর সঙ্গে পৃথিবীর আলো দেখা হলো না গর্ভে থাকা সন্তানটিরও।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর মলির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। সংকটাপন্ন অবস্থায় গত ২৪ অক্টোবর সকালে তাঁকে চট্টগ্রামের মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ২৫ অক্টোবর ভোরে আইসিইউতে মারা যান তিনি।
মলির স্বামী রাজীব সরকার বলেন, ‘ডেঙ্গু পরীক্ষায় পজিটিভ এসেছিল। আগামী মাসে সন্তান জন্ম দেওয়ার তারিখ ছিল। হঠাৎ জ্বরে এভাবে চলে যাবে, ভাবতে পারিনি। সে কোনো কথাও বলতে পারেনি। এখন মেয়েটাকে নিয়ে আমি আর আমার মা আছি।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মলির এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম দেখা দিয়েছিল। এতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আক্রান্ত হয়। তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে চিকিৎসকেরা প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মাসে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে ১৩, আগস্টে ২২ এবং সেপ্টেম্বরে ৫৮ জন, ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ৪৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ১ জনের।
এদিকে, গত দেড় মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে তিন অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা অর্পিতা দাশ মারা যান। এর এক সপ্তাহ পর নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান মণি আক্তার নামে আরেক অন্তঃসত্ত্বা নারী।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ