বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● পাবনায় শিক্ষক বদলিতে অনিয়ম, লাখ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ      ● চুয়াডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত      ● রংপুরে বাস-ডাম্প ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৪      ● মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল শুরু ৩১ অক্টোবর      ● মুরাদনগর হাসপাতালে অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসক, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ      ● ঝালকাঠিতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে র‍্যালি ও কৌশল প্রদর্শনী      ● সাটুরিয়ায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত: ‘সচেতনতাই পারে দুর্ঘটনা কমাতে’      ● শিবপুরে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত       ● গৌরীপুর বাজারে আফগানী ডাইনসহ পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা      ● দাউদকান্দির গৌরীপুর ফুটওভার ব্রিজ দখলমুক্ত হবে কবে, অপেক্ষায় পথচারীরা      ● খালেদা জিয়াকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, দাউদকান্দিতে আটক যুবক      ● নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি      
পাবনায় শিক্ষক বদলিতে অনিয়ম, লাখ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ
শিশির ইসলাম, পাবনা
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৯ পিএম আপডেট: ২৮.১০.২০২৬ ২:২০ PM

পাবনা সদর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আবেদন করেও বদলির সুযোগ না পাওয়া কয়েকজন শিক্ষকের অভিযোগ, বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে অপেক্ষাকৃত নবীন শিক্ষকদের বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি বদলির ক্ষেত্রে বদলিপ্রতি লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

গত ৯ আগষ্ট প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে শুন্য পদের অনুকুলে আবেদন করতে বলা হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,  শিক্ষকদের ৩০ আগস্টের  মধ্যে আবেদন করতে বলা হলে প্রায় ৫৫ জন শিক্ষক আবেদন করেন। এর মধ্যে ১০ জনের বদলি হয়। ৫১ জনের আবেদন উপস্থাপিত হয় । তবে বদলি হওয়া শিক্ষকদের তালিকা পর্যালোচনা করে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে রেখে তুলনামূলকভাবে নবীন শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে।

 উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাঃ সাফিয়া আখতার অপু বদলি কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে আদেশে স্বাক্ষর করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামারা তাসবিহা ছিলেন কমিটির সভাপতি।  সভাপতি ও সদস্য সচিবের যোগসাজশে এসব অনিয়ম হয়েছে বলে একাধিক শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা জানান। তারা বলেন সভাপতি এবং সদস্য সচিবের বাহিরে কারো কথা বলার এখতিয়ার নেই। যা হয়েছে দুজনের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে হয়েছে।

পাবনা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের শিক্ষক বদলি কার্যক্রম নিয়েও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ২০২৬ সালের ১১ আগস্টের শূন্য পদের তালিকায় ১৯টি বিদ্যালয়ের নাম থাকলেও পাবনা পৌর এলাকার দক্ষিণ রাঘবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম ছিল না।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক শামীম আরা খানমের শেষ কর্মদিবস ছিল ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। সে হিসাবে পদটি ১ অক্টোবর থেকে শূন্য হওয়ার কথা। কিন্তু এর আগেই, ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ‘উপজেলা পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ বিষয়ক কমিটির সভা’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পশ্চিম চরবলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সালমা আক্তারকে দক্ষিণ রাঘবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় বদলি কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু শিক্ষক নেতার হস্তক্ষেপে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবী করেন।

জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে এগিয়ে থাকা শিক্ষককে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাবনা সদরের কুলুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে বদলি নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের দাবি, ২০১০ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত দীঘিগোহাইলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসুদ রানাকে বাদ দিয়ে ২০১৬ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত চরসদিরাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুর রউফকে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া শ্রীপুর খতিব আঃ জাহিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে ২০০৯ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত সাদুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল বাছিরকে বাদ দিয়ে ২০১০ সালে যোগদানকারী চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিরিন ফাতেমাকে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক আবুল বাছির বলেন এখানেও মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন করা হয়েছে। 

বালিয়াডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দিলরুবা খানমের বদলি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাঁদের অভিযোগ, জ্যেষ্ঠ প্রার্থীদের বাদ দিয়ে তাঁকে পাবনা পৌরসভার ছাতিয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।


শিক্ষকসংকটের বিদ্যালয় থেকেও বদলি করা হয়েছে। বদলি নীতিমালায় প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে বদলির নিয়ম না থাকলেও ০৩ জন শিক্ষকের ক্ষেত্রে এটা করা হয়েছে। নীতিমালা মোতাবেক ০৫ জন কর্মরত আছে এমন বিদ্যালয় থেকে বদলি নিষেধ করা থাকলেও নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে বদলি দেখানো হয়েছে এবং সিনিয়র শিক্ষককে বাদ দিয়ে নবীন শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। টেবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ টি সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে ২০১২ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত একই বিদ্যালয়ে ১৪/১৫ বছর ধরে কর্মরত লোহাগাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হুসনে আরা পারভীনকে বাদ দিয়ে ২০২৩ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত শিমুলচারা সপ্রাবির জান্নাতুল ফেরদৌস কে বদলি দেখানো হয়েছে যে শিমুলচারা বিদ্যালয়ে কর্মরত পদ রয়েছে মাত্র ৫ টি। 
জানা যায়, বদলি কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোসাঃ সাফিয়া আক্তার অপুকে বদলিবঞ্চিত শিক্ষক হুসনে আরা পারভীন এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সদুত্তর না দিতে পেরে রেগে যান, অশোভন আচরণ করেন এবং বেতন বন্ধ করার হুমকি দেন। উক্ত শিক্ষক বদলি কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামারা তাসবিহাকেও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন কি হয়েছে তার জবাব আমি দিতে পারবোনা আপনাকে।


এবিষয়ে বদলি বঞ্চিত হুসনে আরা পারভীন বলেন আমি দীর্ঘদিন একই স্কুলে দায়িত্ব পালন করছি এবং কয়েক মেয়াদে সততার সাথে প্রধান  শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছি। কোন অনিয়ম করিনি। কিন্ত আমার সকল কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও বদলি কমিটিতে আমার নামই উপস্থাপন করা হয়নি। যাকে টেবুনিয়া স্কুলে দেওয়া হয়েছে সে কোন ক্যাটাগড়িতেই বদলির আদেশ পাননা। কিন্তু তারপরও কেন করা হলো আমি এর সঠিক তদন্ত চাই। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, "জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে রেখে নতুন শিক্ষকদের বদলি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেঅনৈতিক লেনদেন হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ।"৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

বদলিতে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাঁদের একজনের দাবি, "৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। যারা টাকা দিয়েছেন, তাদের বদলি হয়েছে। যারা দেননি তাদের অনেকের ফাইল ই উপস্থাপন করা হয়নি।

সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাধিক সহকারি শিক্ষা অফিসার বলেন এই শিক্ষা অফিসার আসার পর থেকে এই অফিসে অন্যায় অনিয়ম হয়ে আসছে কেউ মুখ খুললে তাকে বদলি, বেতন বন্ধসহ নানা হুমকি প্রদান করা হয় বলে আমরা সহ্য করি।  অনেকসময় প্রকাশ্যেই অনৈতিক অর্থ লেনদেন হয়। আমরা দেখেও না দেখার ভান করি।

বদলিতে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বদলি কমিটির সদস্য সচিব মোসাঃ সাফিয়া আখতার অপু বলেন, 'বদলি তো আমি একা করিনি। একটা নিদিষ্ট কমিটি আছে। সবাই মিলেই করেছে টাকা লেনদেনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কথা এড়িয়ে গিয়ে বলেন কোনকিছুই আমি একা করিনি। বদলি কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার এবং আরো কয়েকজন ছিলো সবাই মিলেই করেছি। এক পর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন হ্যা অনিয়ম করেছি কি করবেন করেন উল্লেখিত সাংবাদিক কে মামলার ভয় ও দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। এবং বলেন সব যায়গায় দূর্নীতি হয় জেলা শিক্ষা অফিসে ধরেন দেখেন কি হয়। তবে জেলা শিক্ষা অফিসে কারা কি দূর্নীতি করে সেটা উল্লেখ করে বলতে পারেন নি।

তবে যখন প্রশ্ন করা হয়, দিঘী গোহাইলবাড়ির সহকারী শিক্ষক জনাব মাসুদ রানার নাম কেন আবেদনকারীদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করেননি এবং বদলিকমিটির সভায় উপস্থাপন করেননি, এটা তো আপনার অফিসের কাজ, মানে, আপনার কাজ, এটা মোটেও কমিটির কাজ নয়, তখন তিনি বলেন এটা ভুলবশতঃ বাদ পড়েছে।

তবে যেহেতু তার বিরুদ্ধে পূর্বথেকেই আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাই শিক্ষকসমাজ এটাকে নিছক ভুল বলতে নারাজ। একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন এই উপজেলা শিক্ষা অফিসারের পূর্বের ইতিহাস ভালো নয়। যেখানে গিয়েছেন সেখানেই দুর্নীতির অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাঃ সাফিয়া আখতার অপু ২০০৬ সালে এ পদে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটায় নিয়োগ পান। তার প্রথম নিয়োগ হয় পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলায়। সেখানে তিনি মাত্র বছরখানেক চাকরি করে অদক্ষতা, অসততা, অশোভন আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে বিতাড়িত হন। জানা যায়, পাবনা সদর উপজেলাতেও তিনি আর্থিক দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন। তিনি শিক্ষকদের টিএ/ডিএ বিলের টাকা কৌশলে আত্মসাৎ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে শ্রীপুর খতিব জাহিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরীর পিইডিপি-৪ এর বরাদ্দের টাকা ০৬ মাসের বেতন

১,০৭,০০০ টাকা (এক লক্ষ সাত হাজার) আত্মসাৎ করে রাজস্বখাত্রের অব্যয়িত টাকা থেকে মিটিয়েছেন। এ অব্যয়িত টাকা প্রকৃতপক্ষে সরকারি কোষাগারে ফেরত যাওয়ার কথা। এছাড়া জানা যায়, তার অদক্ষতার কারণে বিদ্যালয় পর্যায়ে প্রেরিত প্রাক-প্রাথমিকের খরচের জন্য সরকারি বরাদ্দ আসার পরেও ফেরত চলে গিয়েছে ফলে অনেক বিদ্যালয় ভাউচার দাখিলের পরও টাকা পায়নি। এসব বিষয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও তিনি চেয়ারে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।  তবে ভুক্তভোগীরা জানান তার খুঁটির জোর কোথায় সেটা তদন্ত করে দেখতে হবে। জানা যায় বিভিন্ন অনিয়ম ঢাকতে কারনে অকারণে মন্ত্রণালয়ে যাতায়াত করতে দেখা যায়।

জানা যায়, এসব দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত পরিচালনা করছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মোমিন উদ্দীন। জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন উপজেলা পর্যায়ের বদলির সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার এক্ষেত্রে উনি কি করেছ জানিনা তবে বেশ কিছুদিন উনার নানা অন্যায় অনিয়মের কথা শুনছি উনার আগের কর্মস্থলে খোজ নিয়েও জেনেছি উনি ভালো দায়িত্বশীল ছিলেন না।  লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিনে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মোমিন উদ্দীন স্বদেশ প্রতিদিন কে বলেন পাবনা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার 
মোসাঃ সাফিয়া আখতার অপুর বিষয়ে অভিযোগ এর শেষ নেই ইতিমধ্যে কয়েকটি অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে আপনার মাধ্যমে জানলাম এ বিষয়েও আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।  এবং বিভাগীয়ভাবে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। অন্যায় যেই করুক কোন ছাড় নেই। 

পাবনা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক
বদলি কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামারা তাসবিহা বদলির অনিয়মের বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে নারাজ এবং অর্থনৈতিক লেনদেন এর বিষয় অস্বীকার করেন। তিনিও বলেন যা করেছে সবাই মিলেই করেছে। তার কথায় এটা পরিষ্কার বোঝা যায় অনৈতিক লেনদেন হয়েছে বলেই বদলির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠদের বাদ দিয়ে নবীনদের কারন ছাড়াই বদলি করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বদলির আবেদন করা কয়েকজন শিক্ষকের ফাইল উপস্থাপন না হওয়ার কারন জানতে চাইলে তিনি অনেকটা উত্তেজিত ও বিরক্ত হয়ে বলেন আমার অন্য কাজ আছে আপনারা আসতে পারেন বলে সাংবাদিককে বিদায় করে দেন।

এবিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম স্বদেশ প্রতিদিন কে  বলেন আমি সবসময় স্বচ্ছতা নীতিনৈতিকতা নিয়ে কাজ করছি বদলির বিষয়েও আমি তাই জানতাম তবে অনিয়মের কথা শুনছি এটা আমি ক্ষতিয়ে দেখবো এবং জরিতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। অন্যায়কারীর কোন ছাড় নেই।

শিক্ষকদের বদলি নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ, বদলির তালিকা তৈরির মানদণ্ড এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী শিক্ষকরা।









স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি


আরও সংবাদ   বিষয়:  পাবনা   প্রাথমিক শিক্ষক বদলি   বদলিতে অনিয়ম   আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ   উপজেলা শিক্ষা অফিস   সাফিয়া আখতার অপু   তদন্ত   সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : ড. এম এ কাইয়ুম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close