
মোংলা সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরিদর্শনকালে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেসব দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, সেসব নির্দেশনা শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়।
লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তারেক রহমানের প্রথম মোংলা বন্দর সফর এবং একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম খুলনা সফর। তাঁর এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয়েছে।
মোংলা সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত দ্বিতীয় বৃহত্তম ও ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দর, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিশেষ করে পোশাক রপ্তানি, পাট, চামড়া, হিমায়িত খাদ্য ও ভারী যন্ত্রপাতি পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে।
সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নলিয়ানে পরিদর্শনে যান। এরপর সেখান থেকে সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ শেষে নৌপথে মোংলায় আসেন। মোংলা বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি উপস্থিত হন এবং জেটি ও সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় মোংলা বন্দরের সামগ্রিক অবস্থার বিষয়টি চেয়ারম্যান উপস্থাপন করেন।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সম্প্রতি (১০ অক্টোবর ২০২৬) মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ৩৩৫.৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মোংলা বন্দরকে ‘ফার্স্ট কলিং পোর্ট’ হিসেবে বিবেচনা, ড্রেজিং কার্যক্রম, খুলনা-মোংলা সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ, খুলনা-ভাঙ্গা সংযোগ সড়ক নির্মাণ, খান জাহান আলী বিমানবন্দর, ওয়াগন ট্রেন ও কনটেইনার ট্রেন চালুকরণসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নৌপরিবহনমন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ প্রতিমন্ত্রী, চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ডিজি, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, খুলনা অঞ্চলের ১ ও ৫ নম্বর সংসদ সদস্যবৃন্দ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন), সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন), পরিচালক (ট্রাফিক), প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেটিতে আয়োজিত ব্রিফিংটি মনোযোগসহকারে শোনেন এবং মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় নাব্যতা অর্জন ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জসহ বন্দরের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এরপর তিনি প্রস্তাবিত বেজা (BEZA) অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, বন্দর চ্যানেল ড্রেজিং হলে নাব্যতা বাড়বে। ফলে অধিক ড্রাফটের জাহাজ এ বন্দরে আনা সম্ভব হবে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আগমনে খুলনা, বাগেরহাটসহ গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে মোংলা বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বন্দর এলাকার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা ও অবকাঠামোগত জটিলতাগুলোর দ্রুত সমাধান হলে এ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবে বলেও মনে করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ