প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৬ পিএম

আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ অক্টোবর শেষ হয়েছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলা। তবে বন্ধের ঘোষণার পরও শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে মেলা চলছে পুরোদমে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিদিন বিভিন্ন খাতে আদায় করা হচ্ছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। ২২ দিনে প্রায় পাঁচ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা আদায়ের দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অথচ মেলা থেকে কোনো রাজস্ব পায়নি জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। বিপুল এই অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দোকানভেদে দৈনিক ১ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা ভাড়া এবং ১০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, ইট বিছানো ও বিনোদনমূলক আয়োজন থেকেও অর্থ আদায় করা হয়েছে। মেলা শেষের ঘোষণা থাকলেও কার্যক্রম চালু থাকায় অর্থ আদায় অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, মেলা আয়োজনের জন্য কোনো টেন্ডার হয়নি; আয়োজকদের মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসন মেলা থেকে কোনো রাজস্ব পায়নি। তিনি আরও বলেন, মেলার সময় বাড়ানোর আবেদন করা হলেও অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, পৌরসভার মালিকানাধীন শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে মেলা আয়োজন করা হলেও চলতি বছর পৌরসভা কোনো রাজস্ব পায়নি।
মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, সাধারণ মানুষের চাহিদা ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়ের ভিত্তিতে ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, দোকানিদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় বা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি। বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তিরা নিজস্ব বিনিয়োগ ও চুক্তি অনুযায়ী আয় করছেন। তবে মেলার আয় কোথায় ও কীভাবে জমা হচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁর কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আলীনুর খান বাবুল অভিযোগ করেন, মেলায় গভীর রাতে জুয়ার আসর বসছে এবং প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ টাকা আদায় হচ্ছে। এই অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তার হিসাব প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও মেলা চালু থাকা, প্রতিদিন বিপুল অর্থ আদায়ের অভিযোগ এবং সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা না পড়ার ঘটনায় মেলার ব্যবস্থাপনা ও অর্থের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মেলার আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ এবং অভিযোগগুলো তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি