
কক্সবাজারের পেচারদ্বীপ সমুদ্রসৈকতে নেমে নিখোঁজ আরও এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও এক পর্যটক।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় পেচারদ্বীপ সৈকতে ভেসে আসে মরদেহটি। মরদেহটি চট্টগ্রামের বাংলাবাজার বায়েজিদ এলাকার হারুনের বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
নিহত চারজনের মধ্যে রোহান ও জিশান ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা। আর আকাশ ও হারুন চট্টগ্রামের বাংলাবাজার বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা। এখনো ঢাকার উত্তরার নিবিড় নিখোঁজ রয়েছেন।
কক্সবাজার ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য বলেন, বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে নির্জন পেচারদ্বীপ সৈকতে চট্টগ্রাম থেকে আসা পাঁচ পর্যটক এবং ঢাকা থেকে আসা সাত পর্যটক পানিতে ছিলেন। তাঁদের একজন সমুদ্রে ভেসে যেতে থাকলে বাঁচার জন্য চিৎকার করেন। তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন অন্যরা। একপর্যায়ে তাঁরা পরস্পরের হাত ধরে শিকলের মতো তৈরি করে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু হঠাৎ বড় ঢেউ আছড়ে পড়লে তাঁদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
‘ঢেউয়ের তোড়ে কয়েকজন একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পানিতে তলিয়ে যান। ঘণ্টাখানেক পর স্থানীয় জেলে, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। নিখোঁজ রয়ে যান দুজন।’
দোলন আচার্য্য আরও বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত রোহানের খালু মো. জাহিদ বলেন, তাঁরা সমুদ্রে গোসল করতে নেমেছিলেন। তাঁদের থেকে কিছুটা দূরে থাকা এক পর্যটক পানিতে ভেসে যাওয়ার সময় ‘হেল্প, হেল্প’ বলে চিৎকার করছিলেন। তখন তাঁরা চার-পাঁচজন বন্ধু তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে যান। তাঁরা একে অপরের হাত ধরে শিকলের মতো তৈরি করে তাঁকে টেনে আনার চেষ্টা করেন।
জাহিদ জানান, উদ্ধারের চেষ্টা চলার সময় হঠাৎ বড় একটি ঢেউ আছড়ে পড়ে। তখন তাঁরা পানির নিচে পা রাখতে পারছিলেন না। ঢেউয়ের ধাক্কায় একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সবাই স্রোতে তলিয়ে যেতে থাকেন। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় কয়েকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, তাঁদের সাতজনের একটি দল ছিল। এ দলের দুজন মারা গেছেন, আরেকজন এখনো নিখোঁজ। বাকিদের স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। তাঁদের কেউই ভালোভাবে সাঁতার জানতেন না। সমুদ্রে সাঁতার কাটা আর সাধারণ পানিতে সাঁতার কাটার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। হঠাৎ বড় ঢেউয়ের মুখে পড়লে আতঙ্কিত হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মো. আবু জাফর বলেন, সাঁতার জানেন না এমন ব্যক্তিদের তো বটেই, সাঁতার জানা ব্যক্তিদেরও বঙ্গোপসাগরের মতো উত্তাল সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
রামুস্থ হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলাইমান বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ি ও রামু থানার পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের একটি দল কাজ করছে। উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের নিষেধ সত্ত্বেও পর্যটকেরা ওই স্থানে পানিতে নামেন। একপর্যায়ে দুর্ঘটনা ঘটলে অন্য পর্যটকেরা তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে যান।
ইউএনও আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট রিসোর্টের মালিকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে শিগগির আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ