প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৫ পিএম

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনায় ক্ষমতাসীন বিএনপির ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। দলের একাংশ এ সিদ্ধান্তকে জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছে। অন্য অংশের মতে, এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোরতা দেখানো হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধা তৈরি করতে পারে।
গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাককে প্রকাশ্যে পিস্তল প্রদর্শন করতে দেখা যাওয়ার পর বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণ ও আগ্নেয়াস্ত্র বহনের আইনগত দিক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রোববার রাতে বিভিন্ন সরকারি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। পরদিন সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক।
বিএনপির একাংশের মতে, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করা তাঁর পদের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে ইশরাকের অবস্থান সমর্থনযোগ্য হলেও তাঁর কর্মপদ্ধতি ঠিক হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনও বলেন, জনপ্রিয় ও আস্থাভাজন নেতার ক্ষেত্রেও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার বার্তা দিয়েছে সরকার।
তবে কয়েকজন সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতা মনে করেন, নির্বাচনী এলাকায় মাদক সমস্যা মোকাবিলার সময় ইশরাক আবেগের বশে এমন আচরণ করে থাকতে পারেন। তাঁদের মতে, পদত্যাগের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁর উদ্দেশ্য ও রাজনৈতিক অবদান বিবেচনা করা যেত। এক সংসদ সদস্যের ভাষ্য, এ সিদ্ধান্ত শক্ত বার্তা দিলেও ভবিষ্যতে জনপ্রতিনিধিদের স্বাধীনভাবে উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত আট মাসে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলে একাধিক পদত্যাগ ও রদবদলের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেন। পরে মন্ত্রিসভার রদবদলে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন পদ ছাড়েন। এ ছাড়া মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর গত ১ অক্টোবর সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি