প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৪ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ড্রেজার ব্যবসায়ী মোকবুল হোসেন গুড্ডু (৩৮) নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। গ্রেফতারকৃত চার আসামির মধ্যে তিনজনকে আদালতে রিমান্ডে পাঠানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে পাঠামারা গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ উপজেলা প্রশাসন কার্যালয় ও বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর (রোববার) দুপুরে উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের মিরপুর সংলগ্ন তিতাস নদীর পানির তলদেশ থেকে মোকবুল হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নৌকার সাথে লোহার অ্যাঙ্গেল ও শক্ত রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একটি ডুবুরি দল নদীর তলদেশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত মোকবুল হোসেন গুড্ডু ছলিমাবাদ ইউনিয়নের পাঠামারা গ্রামের প্রয়াত মোহন মিয়া ব্যাপারীর ছেলে। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিতাস নদীতে বালু উত্তোলনের ড্রেজার ব্যবসায় আসামি রুবেলের সাথে তাঁর অংশীদারিত্ব ছিল।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন— অবিদ মিয়া, বিল্লাল হোসেন, আকলিমা আক্তার আঁখি ও রুবেল।
এদের মধ্যে আসামি রুবেল আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়নি। বাকি তিন আসামি (অবিদ মিয়া, বিল্লাল হোসেন ও আকলিমা আক্তার আঁখি)-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
আসামিদের রিমান্ডে এনে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় রাখা হয়েছে—এমন খবর পেয়েই পাঠামারা গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ রাজপথে নেমে আসেন। থানা ও উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া সর্বস্তরের এলাকাবাসী রুবেল, অবিদ, বিল্লাল ও আঁখিসহ এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি ‘ফাঁসি’ দাবি করেন। এ সময় তাঁরা ঘটনার পেছনে থাকা মূল রহস্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের জোরালো দাবি জানান।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসিন জানান, “আমরা আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ